নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, এই খাতে কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি ও নতুন বিনিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই।
শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর শ্যামলী পার্কে ‘এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে’ নাগরিক সমাবেশ, মূকাভিনয় ও পোস্টার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের ৩১টি পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গবেষক ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম বলেন, “জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থা। টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সৌর ও বায়ুশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।”
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।” তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে করমুক্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধের দাবি জানান।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ও প্রাকৃতিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।” তিনি উপকূল সুরক্ষায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা, বিশেষ বাজেট বরাদ্দ এবং সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর জরুরি।” তারা সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জীবাশ্ম জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের দাবি জানান।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে মূকাভিনয় পরিবেশিত হয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিসংবলিত পোস্টার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।