ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি সবার কাছে সমানভাবে অনুভূত হয় না। একই এলাকায় অবস্থান করলেও কেউ তা স্পষ্টভাবে টের পান, কেউ আবার একেবারেই বুঝতে পারেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবনের তলা, ব্যক্তির সংবেদনশীলতা এবং ভূমিকম্পের সময় তিনি কী করছিলেন—এসব বিষয় এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনি কত তলায় আছেন, তার ওপর এটি নির্ভর করছে। আপনি যত উপরের দিকে থাকবেন, আপনার ঝাঁকুনিটা অনুভব করার সম্ভাবনা তত বেশি। যত নিচে থাকবেন, এটি অনুভব করার সম্ভাবনা তত কম।’
তবে এখানে আরেকটি বিষয় হলো, ‘কিছু কিছু মানুষ গতি খুব ভালো অনুভব করতে পারে।’
তার মতে, যারা ভূমিকম্প টের পায় না তাদের সেনসিটিভিটি বা সংবেদনশীলতা কম।
‘অনেকে আছেন, যারা উচ্চতা নিতে পারেন না। ছাদ থেকে নিচে তাকাতে পারেন না। কারণ তারা উচ্চতার বিষয়ে খুবই সংবেদনশীল। মোশন বা গতির ক্ষেত্রেও তাই,’ বলেন এই বিশেষজ্ঞ।
এক্ষেত্রে কেউ কেউ সংবেদনশীল হবেন, সেটি স্বাভাবিক হলেও ‘ভূমিকম্পের সময় ব্যক্তি কোন অবস্থায় ছিল, তার ওপরেও তার টের পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করে,’ বলেও জানান তিনি।
শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘যিনি বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তার ভূমিকম্প টের পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কেউ যদি চলাচলের মাঝে থাকে, তার টের পাওয়ার সম্ভাবনা কম। যিনি রান্না করছেন বা দৌঁড়াচ্ছেন তিনি টের না পেলেও যিনি চুপচাপ টেবিলে বসে কাজ করছেন, তার টের পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা।