২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ঘিরে সংস্কার উদ্যোগ ও জ্বালানি খাতে নীতিগত ভারসাম্যের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর আয়োজিত এক তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যখন দেশের অর্থনীতি এগোচ্ছে, তখন প্রস্তাবিত বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।
জ্বালানি খাতে নীতিগত ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন
সিপিডি’র বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে জ্বালানি খাত। সংস্থাটির মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যমান আর্থিক বৈষম্য নিরসনে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।
তারা বলছে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও বেশি বরাদ্দ ও প্রণোদনা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর নীতিগত প্রবণতা অব্যাহত থাকায় তা পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
‘ফিসকাল ডিসক্রিমিনেশন’ নিয়ে সতর্কতা
সিপিডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জ্বালানি খাতে বিদ্যমান ‘ফিসকাল ডিসক্রিমিনেশন’ বা কর ও নীতিগত বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও পরিবেশ— উভয়ের জন্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনও ব্যাহত হতে পারে।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান
বাজেট পূর্ব আলোচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান বাজেটের প্রস্তাবনার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মনে করে সিপিডি।
সংস্থাটি জানায়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ধরনের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, তার পূর্ণ প্রতিফলন বাজেটে দেখা যায়নি।
সামষ্টিক অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত
সিপিডি আরও বলেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে বাজেট কতটা কার্যকর হবে— তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজেটের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ পরবর্তীকালে প্রকাশ করা হবে, যেখানে নীতি-কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।