কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ২০০ স্পটে সতর্কতা, চেকপোস্টে তল্লাশি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মঙ্গলবার (২৩ জুন)। এ উপলক্ষে রাজধানীর ২০০টি স্পট ঘিরে বিশেষ সতর্ক অস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দিনটিকে ঘিরে কোনও নাশকতা যেন না হয়, সে জন্য সোমবার থেকেই চেকপোস্ট পরিচালনা শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদি বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে নাশকতা ঠেকাতে ইতোমধ্যে চেকপোস্ট শুরু হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর পূর্বাচলের মস্তুল চেকপোস্টে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট চলবে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুপুরের পর থেকে পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, বিমনাবন্দরের রাস্তায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। চেকপোস্টও চলছে।

রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রামপুরা বিটিভির সামনে চেকপোস্ট শুরু হয়েছে। পুরো এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

২০০ স্পটে সতর্কতা (আবির আহম্মেদ সুপ্ত)

হাতিরঝিল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, মালিবাগ রেলগেট থেকে শুরু করে রামপুরা কাঁচাবাজার পুলিশের টহল চলছে। আমরা হাতিরঝিলের প্রবেশমুখে চেকপোস্ট তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেছি।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, তেজগাঁও এলাকার মোহাম্মদপুর, শেরে বাংলানগর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ প্রতিটি এলাকার সতর্কতা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চেকপোস্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোনও মিছিল বা নাশকতা করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরের সবকটি প্রবেশপথে কড়া চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে, যাতে কোনও বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

তল্লাশি কার্যক্রম শুরু হয়েছে (আবির আহম্মেদ সুপ্ত)

নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও নিটোল করতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় থাকবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট। এর মধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) এবং সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি যেকোনও ধরনের আগাম নাশকতা বা ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) ব্যাপক গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স স্ট্যান্ডবাই বা রিজার্ভ রাখা হবে, যেন ডাক পাওয়া মাত্রই তারা অ্যাকশনে যেতে পারে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ১৮ হাজারেরও বেশি অফিসার ও ফোর্স মাঠে থেকে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই বিশাল নিরাপত্তা কর্মযজ্ঞ কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং স্বয়ং ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ডিউটি তদারকি ও দিকনির্দেশনা দেবে।

এছাড়াও দিনটিকে ঘিরে নাশকতা রোধে রাজধানীসহ ছয় জেলা সেনা মোতায়েন করছে সরকার।