আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান: সংস্কৃতি মন্ত্রী

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের বাসায় গিয়ে শোক প্রকাশকালে তিনি এ কথা বলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের দেশের একজন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীকে হারালাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং বিশেষ করে মেহনতি মানুষের পক্ষে তিনি আজীবন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অত্যন্ত স্বনামধন্য অধ্যাপক, জাতীয় অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় শিক্ষক ছিলেন। আমি তার ছাত্র ছিলাম। এ দেশের মুক্তচিন্তার বিকাশ, মানুষের মনন গঠন এবং প্রগতিশীল চিন্তার প্রসারে তার অবদান অনন্য। এ শিক্ষাবিদের মৃত্যুতে দেশ ও জাতি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।’

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রবন্ধ, সাহিত্য সমালোচনা ও চিন্তাধারা—বিশেষ করে সমাজের মেহনতি মানুষের পক্ষে, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিশ্বাসী মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার লেখাগুলো প্রগতিশীল পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার ছেলে দীপনকে যখন উগ্রবাদী একটি চক্র নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তখন আমি তার সরকারি বাসভবনে গিয়েছিলাম। সে সময় তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, “আমার সন্তানকে আমি জাতির কল্যাণে উৎসর্গ করলাম।” একজন পিতার মুখে এমন কথা বলা কত বড় আত্মত্যাগের পরিচয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি কখনও নিজের জন্য ভাবেননি। সব সময় মানুষ, সমাজ ও দেশের জন্য ভেবেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আবুল কাশেম ফজলুল হক কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী বা নেতা ছিলেন না। কিন্তু তিনি নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তার চিন্তা, আদর্শ ও কর্ম আমাদের সমাজকে দীর্ঘদিন পথ দেখাবে।’

তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমি তার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি।’

সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হককে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার প্রথমে তার মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নেওয়া হবে। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ এবং পরে বাংলা বিভাগে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।