শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সকাল থেকেই আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় এবং উত্তরায় রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করে তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এক ফাঁকে সায়েন্স ল্যাব ছেড়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর ঘেরাও করে। দিনভর আন্দোলনে সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা প্রকাশ করে। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থী নিহতের খবরটি গুজব। পুলিশের কাছে এমন কোনও তথ্য নেই।
ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট জানায়, এইচএসসি-২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিসহ একাধিক দাবি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন স্থানে গুলি বা নিহত হওয়ার ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন পেজ থেকে। দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে সারা দেশে কোথাও নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার বলছে, আন্দোলনে প্রথম নিহত শিক্ষার্থীর ছবি দাবিতে এবার ছড়াচ্ছে আহত এক শিক্ষার্থীর এআই ছবি। এছাড়া ঢাকায় ৭ শিক্ষার্থী নিহতের দাবিতে এবার ছড়াচ্ছে গুজব বলেও জানায় তারা।
আরেক ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান জানায়, পুলিশ ও ছাত্রদলের হামলায় আহতদের দৃশ্য দাবিতে ছড়ানো ছবিটি চট্টগ্রামের পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার।
মূলত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রের মান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর অবমাননাকর মন্তব্যের (ফার্মের মুরগি) প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, মিছিল ও মানববন্ধন করে পরীক্ষার্থীরা। বিকালের দিকে তারা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয়। এই ঘোষণার পর সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেয় তারা। পরে সেখান থেকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের এডিসি নিয়াজ মেহেদী বলেন, আজকের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনও শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।