বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন অফিস পরিদর্শনে মালদ্বীপের হাইকমিশনার

ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশিদ দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউন ও জাতীয় দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে তিনি দুই গণমাধ্যমের কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মালদ্বীপ হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব আহমেদ মাইশান এবং হাইকমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী ইকবাল জাহান নীলা।

বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয় পরিদর্শন করেন মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশিদ। ছবি: আবিদ আহমেদ সুপ্ত, বাংলা ট্রিবিউন।

হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ এবং বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম।

পরিদর্শনকালে শিউনীন রশিদ বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের নিউজরুম ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দুই প্রতিষ্ঠানের সংবাদ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

পরে তিনি দুই পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

মালদ্বীপের হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপে কর্মরত রয়েছেন এবং দেশটির অর্থনীতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তিনি বলেন, মালদ্বীপের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

শিউনীন রশিদ দুই পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত, বাংলা ট্রিবিউন।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়ায় পর্যটক যাতায়াত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানুষে-মানুষে যোগাযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানেরও মালদ্বীপে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে উভয় দেশই উপকৃত হবে বলে মত দেন হাইকমিশনার।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, শিউনীন রশিদ মালদ্বীপের একজন পেশাদার ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে মালদ্বীপের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ, আমেরিকা ও ওশেনিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন।

ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে তিনি ইউরোপীয় দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মালদ্বীপের নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শিউনিন সেদেশের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে একজন কর্মকর্তা হিসাবে তার পেশাগত কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।  

শিউনিন ২০১০ সালে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যাচেলর অব হিউম্যান সায়েন্সেস এবং ২০১২ সালে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক পলিসিতে মাস্টার অফ ম্যানেজমেন্ট করেছেন।

..প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, সাংবাদিকতা আজ জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃত, দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর বিশ্বের উন্নয়নের প্রতি পাঠকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন শ্রোতাদের অভ্যাসের পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় তাদের আন্তর্জাতিক কভারেজ সম্প্রসারণ করেছে এবং পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আঞ্চলিক বোঝাপড়া প্রচারে বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের গণমাধ্যমের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেছে।

রিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক কণ্ঠস্বরকে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।

বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের গণমাধ্যম নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করতে পারে।   

সফরের অংশ হিসাবে হাইকমিশনার দুই গণমাধ্যমের নিউজরুম পরিদর্শন করেন, যেখানে সম্পাদকরা প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত প্রিন্ট ও ডিজিটাল নিউজ কার্যক্রম প্রদর্শন করেন এবং ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের জন্য কনটেন্ট তৈরিতে সাংবাদিক, সম্পাদক ও মাল্টিমিডিয়া টিম কীভাবে একযোগে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করেন।  

এ সময় মালদ্বীপ হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব আহমেদ মাইশান, হাইকমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী ইকবাল জাহান নীলা এবং দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।