অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন-সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স (টুকসা)। সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জাতীয় গণমাধ্যম ব্রিফিংয়ে টুকসা’র ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক এবং সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মহিলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার দিনা অনুষ্ঠানে টুকসা’র ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
ট্রেড ইউনিয়ন ও সুশীল সমাজ সংগঠনগুলোর সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরে সুনির্দিষ্ট দাবি ও নীতিগত সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এতে নিরাপদ, ন্যায্য ও অধিকারভিত্তিক শ্রম অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে টুকসা’র প্রতিনিধিরা বলেন, বিদেশে কত সংখ্যক কর্মী পাঠানো হলো, শুধু তা দিয়ে শ্রম অভিবাসনের সাফল্য পরিমাপ করা উচিত নয়। কর্মীরা নিরাপদে বিদেশ যেতে পারছেন কি না, ন্যায্য নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন কি না, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হচ্ছে কি না এবং অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
ঘোষণাপত্রে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ, বিশেষ করে ফিফা বিশ্বকাপ সংক্রান্ত প্রস্তুতি কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পরিস্থিতি; মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগ-সংক্রান্ত সিন্ডিকেট ও অনিয়ম; গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা; দ্বিপাক্ষিক শ্রম ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা; টিটিসি গুলোর কার্যকারিতা ও অবকাঠামোর দুর্বলতা; এবং অভিবাসী কর্মীদের নির্যাতন, হয়রানি ও শোষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
টুকসা সাধারণ সমঝোতা স্মারকের পরিবর্তে স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক শ্রম চুক্তি করার দাবি জানিয়েছে। এসব চুক্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া, মজুরি, কর্মপরিবেশ, পেশাগত নিরাপত্তা, শ্রমিকের অধিকার, অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তি এবং যৌথ পর্যবেক্ষণের বিষয়ে উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে টুকসা। অভিবাসী কর্মীদের জন্য সহজলভ্য অভিযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা বা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্ত অতীতে যে ব্যবস্থাগুলো অভিবাসী কর্মীদের শোষণ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে, সেই একই ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া কোনো সমাধান নয়। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কর্মীর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-গুলোর অবকাঠামো ও কার্যকারিতা উন্নয়নেরও দাবি জানিয়েছে টুকসা। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং অভিবাসন নীতিনির্ধারণে ট্রেড ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ, অভিবাসী কর্মীদের প্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান টুকসা’র নির্বাহী কমিটির সদস্য শাকিল আখতার চৌধুরী, উপদেষ্টা সৈয়দ সাইফুল হক, বোয়াফ চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দীন খান এবং উপস্থিত অতিথিরা।