যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এআইইউবিতে আসকের নতুন উদ্যোগ

যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস পরিবেশ গড়ে তুলতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে (এআইইউবি) উদ্যোগ নিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাংলাদেশের পাঁচটি নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি এ ধরনের সহিংসতার পেছনে থাকা ক্ষতিকর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এআইইউবি ক্যাম্পাসে প্রকল্পের উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন। সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করার পাশাপাশি এআইইউবির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অনলাইন হয়রানি ও অফলাইন সহিংসতার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।

তাহমিনা রহমান বলেন, বাংলাদেশে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ক্রমেই উদ্বেগজনক ও বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে আসক দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য আরও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হবে।

এআইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল ও অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চ্যালেঞ্জের ধরন ও মাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন সংস্থার ইউনিট ম্যানেজার শ্রাবণা দত্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে কীভাবে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় অধ্যাপক ফারহীন হাসান আশা প্রকাশ করেন, এ প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে আরও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো, কার্যকর অভিযোগ ও প্রতিকারব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এআইইউবিতে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিষয়েও তারা বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ দেন।

সভাটি আইইউবিতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নিরাপদ ক্যাম্পাস পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।