গানে গানে কবিগুরুকে স্মরণ

‘সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে’— সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান দিয়ে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী ৮৫তম রবীন্দ্র প্রয়াণ বার্ষিকী স্মরণানুষ্ঠান। একে একে বেজে উঠলো কবিগুরুর অমর সব সৃষ্টি। কখনও বিরহ, কখনও প্রেম, কখনও প্রকৃতি, আবার কখনও জীবনবোধ— রবীন্দ্রসুরে যেন ফিরে এলো নানা অনুভূতির আবহ।  

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর ছায়ানটে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার আয়োজনে শুরু হয় দুই দিনব্যাপী স্মরণানুষ্ঠান। শুরুতেই সমবেতভাবে পরিবেশন করা হয় ‘সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে’। এরপর ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে, এ জীবন পূর্ণ করো’ গানে অনুষ্ঠানের আবহ আরও গভীর হয়ে ওঠে।  

এরপর একক পরিবেশনায় মঞ্চে আসেন আহমাদ মায়া আখতারী। তার পরিবেশনার পর একে একে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন অনুশ্রী ভট্টাচার্য, সূচিত্রা চক্রবর্তী, সুমনা দাশ, তালাত সুলতানা, কুশল রায় জয়, তনুশ্রী দীপক, মৌমিতা মমী, শর্মীলা চক্রবর্তী, শাকিল হাসমি, শিল্পী সাহা, জিনাত ফেরদৌস ছবি, বন্দনা রানী গোমস্তা, সুস্মিত সাইফ ইসলাম, সুমি চক্রবর্তী, সাবরিনা রহমান, আঁখি হালদার, বুলবুল ইসলাম, তনুশ্রী ভট্টাচার্য, জাফর আহমেদ, স্মৃতিকণা পাল, লিটন চন্দ্র বৈদ্যসহ আরও অনেকে।  

‘জানি জানি তুমি এসেছো এই পথে’ গানটি পরিবেশন করেন অনুশ্রী ভট্টাচার্য। সূচিত্রা চক্রবর্তীর কণ্ঠে শোনা যায় ‘ওই শুনি যেন চরণধ্বনি রে’। সুমনা দাশ পরিবেশন করেন ‘মম মন উপবনে’। তালাত সুলতানা গেয়ে শোনান ‘সকরুন বেনু বাজায়ে কে যায়’।  

কুশল রায় জয় পরিবেশন করেন ‘আমার যা আছে আমি সকল দিতে পারিনি তোমার নামে’। ‘উতল ধারা বাদল ঝরে সকল বেলা’ গানটি পরিবেশন করেন তনুশ্রী দীপক। মৌমিতা মমী গেয়ে শোনান ‘অগ্নিবীণা বাজাও তুমি’। শর্মীলা চক্রবর্তীর পরিবেশনায় ছিল ‘সন্ধ্যা হল গো মা’।  

এভাবে একের পর এক রবীন্দ্রসংগীতে মুখর হয়ে ওঠে ছায়ানটের মূল মিলনায়তন। শাকিল হাসমি পরিবেশন করেন ‘চিনিলে না আমারে কী’, শিল্পী সাহা গেয়ে শোনান ‘তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে’। জিনাত ফেরদৌস ছবি পরিবেশন করেন ‘যা পেয়েছি প্রথম দিনে সেই যেন পাই শেষে’।  

বন্দনা রানী গোমস্তা গেয়ে শোনান ‘ভুবনজোড়া আসমখানি’। সুস্মিত সাইফ ইসলামের কণ্ঠে ছিল ‘শক্তিরূপ হেরো তাঁর’। ‘বরিষ ধারা মাঝে শান্তির বারি’ পরিবেশন করেন সুমি চক্রবর্তী। সাবরিনা রহমান গেয়ে শোনান ‘তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে’।  

আঁখি হালদারের কণ্ঠে ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার ঘনিয়ে আসে’ গানটি অনুষ্ঠানে ভিন্ন আবহ তৈরি করে। এরপর বুলবুল ইসলাম পরিবেশন করেন ‘পথে যেতে তোমার পরশ আসে’। তনুশ্রী ভট্টাচার্য গেয়ে শোনান ‘দেখো দেখো দেখো সুকতারা আঁখি মেলে চায়’। 

স্মৃতিকণা পাল গেয়ে শোনান ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’। আর ‘আজি প্রণমি তোমারে চলিব নাহ’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে একক পরিবেশনার পর্ব শেষ করেন লিটন চন্দ্র বৈদ্য।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশী শিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পীযূষ বড়ুয়া বলেন, “৮৫তম রবীন্দ্রপ্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের এই অনুষ্ঠান। আপনারা যারা এসেছেন, সবাইকে আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে বিনীত কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”   

তিনি আরও বলেন, “আমাদের শ্রদ্ধেয় সভাপতি শিল্পী তপন মাহমুদ এবং আমাদের নির্বাহী সভাপতি শিল্পী আমিনা আহমেদ এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে নেই। উনারা দেশের বাইরে রয়েছেন, যার জন্য আমরা অনেকখানি অভিভাবকহীনভাবে অনুষ্ঠানটি করছি। আশা করি, আপনারা আগামীকাল আমাদের সঙ্গে থাকবেন এবং আমাদের শিল্পীদের উৎসাহ দেবেন।”  

এসময় বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিল্পী খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ূম উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণকে স্মরণ করে আয়োজিত এই দুই দিনের অনুষ্ঠানের প্রথমদিন যেন শুধু আনুষ্ঠানিক স্মরণ নয়; বরং তার গানকে নতুন করে ছুঁয়ে দেখার আয়োজন। শিল্পীদের কণ্ঠে একের পর এক রবীন্দ্রসংগীত আর দর্শকদের উপস্থিতিতে ছায়ানটের পরিবেশে তৈরি হয় কবিগুরুকে স্মরণের এক মনোরম সন্ধ্যা।