জন্মাষ্টমীর দিনে বন্ধ জুলাই জাদুঘর, না জেনে এসেছেন অনেকেই

ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন, বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন অনেকেই। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব মানুষের গন্তব্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। কিন্তু সেখানে পৌঁছে এই দর্শনার্থীদের মুখে হাসির বদলে চলে আসে হতাশা। টিকিট কাউন্টার বন্ধ, ভেতরে ঢোকার সুযোগ নেই। জন্মাষ্টমীর সরকারি ছুটিতে জাদুঘর বন্ধ—এমনটা না জেনেই এসে পড়েছেন তারা। ফলে ভ্যাপসা গরমে জাদুঘরের বাইরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে যেতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। তাদের ভাষ্য, সরকারি ছুটির দিনেও এসব দর্শনীয় স্থান খোলা রাখা উচিত।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের   টিকিট কাউন্টারের দর্শনার্থীরা এসে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু টিকিট বিক্রেতা নেই। সেখানে একটা নোটিশ বোর্ডে লেখা রয়েছে ‘৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, শুক্রবার, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর বন্ধ থাকবে। যারা ৪ সেপ্টেম্বরের অনলাইন টিকিট ক্রয় করেছেন, তারা যেকোনও দিন ওই টিকিট প্রদর্শন করে জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন।’’

বন্ধের দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ভিড়কেউ কেউ নোটিশটি পড়ে দেখছেন, আবার এটি না দেখে টিকিটের জন্য  লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ আবার জাদুঘরের ভেতরে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ডেকে জানতে চাইছেন— কখন ঢুকতে দেবেন বা আজকে বন্ধ নাকি, বা কিসের বন্ধ। ‘আজ জাদুঘর বন্ধ’ জানার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কেউ হতাশ, আবার কেউবা বিরক্ত প্রকাশ করেছেন।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে সাইনবোর্ড এলাকা থেকে এসেছেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমরা আজকেই প্রথম এসেছি। ইচ্ছা ছিল জুলাই জাদুঘর দেখবো। শুনলাম, আজকে নাকি বন্ধ।  এতদূর থেকে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। খারাপই লাগছে।

স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাভার থেকে এসেছেন রাশেদুজ্জামান। তারাও প্রথমবারের মতো এসেছেন এই জাদুঘরে। কিন্তু প্রবেশ করতে পারেনি।

রাশেদুজ্জামান বলেন,‘‘ আমরা আজকেই প্রথম আসছিলাম। এসে দেখি টিকিট কাউন্টারে লোক নেই। নোটিশে বলা আছে, জাদুঘর জন্মাষ্টমীর বন্ধ। আগে জানতে পারলে আসতাম না, এমন ভোগান্তিও হতো না।’’

ডেমরা থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এসেছেন আরিফুল ইসলাম। তিনি জানেন আছে যে, বৃহস্পতিবার এই জাদুঘরে সাপ্তাহিক বন্ধ।  কিন্তু আজ যে বন্ধ সেটা জানতেন না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বন্ধের নোটিশআরিফুল বলেন, শুক্রবার যেহেতু  আমার ছুটির দিন। তাই পরিবার  নিয়ে বেড়াতে এসেছিলাম। এসে বিপদেই পড়ে গেলাম। প্রচণ্ড এই গরমে বাচ্চাদের নিয়ে আসতে কষ্ট হয়েছে। কষ্টটা বৃথা গেলো। শুধু শুধু বাচ্চারা কষ্ট পেলো।’’

নারায়ণগঞ্জ থেকে ভাই-বোনেরা মিলে ঘুরতে এসেছিলেন সায়েম। কিন্তু জাদুঘর বন্ধ শুনে কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না তারা।

সায়েম বলেন, ‘‘জাদুঘর বন্ধ। এখন কী যে করবো, কোথায় যাবো, বুঝতে পারছিনা। কেউ কেউ বলছে জিয়া উদ্যানে যেতে। আবার কারও মেজাজ খারাপ, ওরা বলছে বাসায় চলে যাবে।’’

সাভার থেকে আট বছরের সন্তান নিয়ে ঘুরতে আসা মোকসেদকে যখন বলা হলো, ওয়েবসাইটে বন্ধের নোটিশ দেওয়া ছিল, জানতেন কিনা, তিনি বলেন, ‘‘আমরাতো অনলাইনে টিকিট কাটি না। ওখানেও সময় লাগে, আবার ঝামেলাও। তাই ওয়েবসাইটে ঢুকিনি।’’

মাকে নিয়ে দক্ষিণ বনশ্রী থেকে ঘুরতে এসেছেন সুমাইয়া। কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষুব্ধ তিনি।

সুমাইয়া বলেন, ‘‘সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধের দিন খোলা থাকে। ঈদের দিনও বিনোদনকেন্দ্র খোলা থাকে। কিন্তু তারা যদি ছুটির দিনে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখে, তাহলে কিভাবে হবে ?  অযথাই আমাদের কষ্ট দিলো।’’

ছবি: আসাদ আবেদীন জয়