জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও বিভিন্ন স্মারক দেখতে ছুটির দিনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ভিড় করেছেন দর্শনার্থীরা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই জাদুঘরে আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন নিদর্শন দেখতে এসেছেন।
তবে জাদুঘর খোলার সময় না জানায় নির্ধারিত সময়ের আগে এসে অনেককে অপেক্ষা করতে হয়েছে । এর মধ্যে হঠাৎ আসা বৃষ্টিতে ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে দর্শনার্থীদের।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর সাবেক গণভবন ও বর্তমানের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।
দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা শুক্রবারে জাদুঘর খোলার সময় না জানায় কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই এসে অপেক্ষা করছেন। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ বৃষ্টি আসাতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সময় দেখা যায় নিজেদের ভিজে হলেও সঙ্গে থাকা ছোট শিশুদের বৃষ্টি থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন অভিভাবকরা।
যাত্রাবাড়ী থেকে জাদুঘর দেখতে আসা সোহাইব আহমেদ জানান, তিনি দুপুর দেড়টার দিকে জাদুঘরের সামনে আসেন। তবে জাদুঘর বিকাল ৩টা থেকে খোলে—এ তথ্য তার জানা ছিল না।
জুলাই আন্দোলনের কী দেখতে এসেছেন জানতে চাইলে সোহাইব বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের অনেক কিছু নাকি এখানে রেখেছে। সেই স্মৃতিগুলো দেখতে এসেছি।’
কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ভাইয়ের কাছে বেড়াতে এসেছেন লোকমানুল ইসলাম। তবে ঢাকায় এসে প্রথমেই ভাইয়ের কাছে না গিয়ে ছুটে জুলাই জাদুঘর দেখতে এসেছেন তিনি। জাদুঘর খোলার সময় না জানায় তাকে দুই দফা জাদুঘরের সামনে আসতে হয়েছে। পরে দুপুরে টিকিটের লাইনে দাঁড়ান তিনি।
লোকমানুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কক্সবাজার থেকে এসেছি আনুমানিক ৯টার দিকে। তারপর সকাল ১১টার দিকে জাদুঘরের দিকে এসেছিলাম, ভেবেছি তখনই খোলা। তারপর জানলাম যে তিনটা থেকে খোলা। এরপর জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। তারপর দুইটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাইয়ের কাছে এসেছি কিন্তু এখনও ভাইয়ের কাছেই যাইনি। এটা দেখে তারপর যাবো।’
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন দেখার পাশাপাশি জাদুঘরে শেখ হাসিনা কোথায় থাকতেন, সেটিও দেখতে আগ্রহী লোকমানুল। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি স্মারক দেখতে এসেছি। আর শেখ হাসিনা কোথায় থাকতো সেটা দেখারও অনেক ইচ্ছে ছিল। সেজন্যই এখানে আসা মূলত।’
এদিকে পুরান ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে জাদুঘর দেখতে এসেছেন মোর্শেদ আলম। প্রায় ১০ দিন আগে টিকিট কেটে শুক্রবার জাদুঘরে আসার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
মোর্শেদ আলম বলেন, ‘৫ আগস্ট উদ্বোধনের পরের দিনই আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু টিকিট পাইনি। অনেক চেষ্টা করে ১১ তারিখে আজকের টিকিট কাটতে পেরেছি।’
টিকিট পেতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টিকিট কাটতে অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে। হয়তো নতুন বলে আমার মতো সবার আগ্রহ বেশি। তাই অনলাইনে স্লট পূরণ হয়ে যায়। হয়তো আস্তে আস্তে এটা ঠিক হয়ে যাবে।’
সাভার থেকে আসা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি আজকেই প্রথম আসলাম। অনলাইনে টিকিট পাইনি। তাই সরাসরি চলে এসেছি। আমি এখানে (জুলাই জাদুঘর) এসেছি সোয়া ১টার দিকে। এসে শুনি তিনটা থেকে খুলবে। তাই অপেক্ষা করছি খোলার।’
আসার কারন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার বাড়ি দেখতে এসেছি। কখনও তো আর সুযোগ হয়নি। এছাড়া আমাদের যে ভাইয়েরা শহীদ হয়েছে তাদের অনেক কিছু আছে এখানে; সেগুলোও দেখতে এসেছি।’
দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি বহন করা বিভিন্ন নিদর্শন দেখতে জাদুঘরটির প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। ফলে অনলাইনে টিকিটের স্লট দ্রুত পূরণ হয়ে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে জাদুঘর খোলার সময় সম্পর্কে তথ্য না জানায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের অনেককে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সমাবেশ







