মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি পোশাক শ্রমিকদের

পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)।

সংগঠনটি বলেছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর করতে হবে। এতে ২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শ্রমিকেরা ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত মজুরি হাতে পাবেন।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইবিসির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন।

সংগঠনটি জানায়, পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সালের নভেম্বরে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। ফলে নতুন মজুরি নির্ধারণের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

আইবিসি বলছে, মজুরি বোর্ড গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়ার কথা। কিন্তু বোর্ড গঠনে বিলম্ব হলে পুরো প্রক্রিয়া পিছিয়ে যেতে পারে। সংগঠনটি জানায়, গত ৪ আগস্ট শ্রমমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। ২০১০ সালে তা ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকা এবং ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আইবিসি বলেছে, মজুরি বাড়লেও একই সময়ে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে বর্তমান মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইবিসি জানিয়েছে, এবার পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নিয়ে সংগঠনটির একটি দল পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং গণমাধ্যমকে তা জানানো হবে।

তাদের মতে, সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে (সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০,৩১০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮,৪০০ টাকা হয়েছে)। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার সাথে সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও বাড়িভাড়া আকাশচুম্বী হয়েছে। একই বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা আজ দিশেহারা ও চরম বৈষম্যের শিকার। 

দাবি বাস্তবায়নে কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে আইবিসি। আগামী ৪ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল শেষে শ্রমমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। ৫ থেকে ২০ অক্টোবর গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইবিসির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল হক আমিন, সহসভাপতি চায়না রহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।