পাসপোর্ট রি-ইস্যুতে ‘শর্টকাটের’ সুযোগ আর থাকছে না

দেশে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার কথা বলে নতুন পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

পাসপোর্ট অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাসপোর্ট হারানোর আবেদনে সাধারণত দুটি কারণ সামনে আসে। এর একটি দেশে এবং অন্যটি বিদেশে ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাসপোর্ট অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশের ক্ষেত্রে সাধারণত বিদেশগমনেচ্ছু ব্যক্তিরা ভিসার জন্য বিভিন্ন এজেন্সিতে পাসপোর্ট জমা দেন। তবে যাদের ভিসা হয় না, এজেন্সিগুলো তাদের পাসপোর্ট দীর্ঘদিন আটকে রাখে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা শর্টকাটে পাসপোর্ট পেতে হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে আবেদন করেন।’

বিদেশে পাসপোর্ট হারানোর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সাধারণত কোনও কর্মী কফিল বা কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রবাসে যান। সেখানে গিয়ে অন্য কোনও ভালো সুযোগ পেলে চুক্তির কারণে কাজ ছাড়তে পারেন না। তখন অনেকেই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন করেন।’

এই দুই সুযোগের ক্ষেত্রেই দেশের নাগরিকরা ভুক্তভোগী হবেন কিনা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাময়িকভাবে সুযোগ মনে হলেও এগুলোর অপব্যবহারও আছে। আমরা এক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন হতে বলছি। আর দেশের কোনও এজেন্সি অবৈধভাবে কারও পাসপোর্ট আটকে রাখলে সেক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ করারও সুযোগ আছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহার রোধ করা জরুরি। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান সই করা পরিপত্রটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট হারালে বা নষ্ট হলে অবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের ওয়েবসাইট বা অনলাইনে রিপোর্ট করতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট পাঠাবে।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট না পাওয়া গেলে জিডির কপি সংযুক্ত করে ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে হবে।

কোনও ভিসা এজেন্সি, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে পাসপোর্ট আটকে রাখলে এবং তা উদ্ধার করা সম্ভব না হলে পূর্ববর্তী পাসপোর্ট বাতিল (রিভোক) করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়া মাত্র স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) তা হালনাগাদ করা হবে এবং প্রয়োজনে ইন্টারপোলকে অবহিত করা হবে।

বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারালে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনকে বিষয়টি জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

পুনঃইস্যু করা নতুন পাসপোর্টের ডাটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘প্রিভিয়াস পাসপোর্ট ইজ রিপোর্টেড টু বি লস্ট’ লেখা থাকবে। এছাড়া হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর নাম, পিতা-মাতার নাম বা জন্ম তারিখের মতো মৌলিক তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না।

একবার বাতিল করা পাসপোর্ট পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হলেও তা দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। অবিলম্বে সেটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা থানায় জানাতে হবে।

প্রথমবার পাসপোর্ট হারালে বা নষ্ট হলে অতিরিক্ত কোনও জরিমানা নেওয়া হবে না। শুধু নির্ধারিত ফি কার্যকর থাকবে। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও পাসপোর্ট হারালে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি বা জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।