প্যাকেজিং খাতের সমস্যা নিয়ে শফিকুর রহমানের কাছে ব্যবসায়ীরা, মিললো যে আশ্বাস

প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের সমস্যা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছেন তিনি।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রফতানিমুখী শিল্পের সঙ্গে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রপ্তানি বাড়ানো ও অর্থনীতির গতি সচল রাখতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতা শিল্পসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সমস্যাগুলো সমাধানে জাতীয় সংসদসহ প্রয়োজনীয় জায়গায় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। এ খাতের সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে কথা বলা এবং জাতীয় সংসদে বিষয়গুলো তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, প্যাকেজিং শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; টেরিটাওয়েল, ওষুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ও রফতানির সঙ্গে এ খাত সরাসরি যুক্ত। বৈশ্বিক বাজারে শুধু পেপার প্যাকেজিংয়ের বাজার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার। এই বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে অংশ নিতে বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ কারখানা পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানানো হয়।

বৈঠকে শিল্প খাতের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। এসব সংকটের কারণে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও রাহাজানিসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ব্যবসার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘আমরা শুধু ব্যবসা, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির বিষয় রাজনীতিবিদদেরই দেখা উচিত’—বলেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ

ব্রিফিংয়ে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। মিরপুরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কোনও খাতই নিরাপদ থাকবে না।

সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মব সৃষ্টি, পেশিশক্তির ব্যবহার ও সহিংসতার মাধ্যমে পুরোনো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার যেকোনও অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।

জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরেরও নিন্দা জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই কোনও না কোনওভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের ওপর হামলা ও অপমানজনক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

বৈঠকে বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার আহমেদসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।