দেশের সব শহরে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ চলছে: গণপূর্তমন্ত্রী

মেট্রোপলিটন সিটি থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, নগর উন্নয়নে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া কাজ করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইউডিডি) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মেট্রোপলিটন সিটিগুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এরপর বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমরা জোনিং করব—কোথায় কী হওয়া উচিত। সেই মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কাজ করাটা অনেকটা চোখ বন্ধ করে একটা লক্ষ্য করে চারটা তীর ছোড়ার মতো। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করতে চাচ্ছি। এ জন্যই ইউডিডিকে আমরা শক্তিশালী করছি।”

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, গত সাত মাসে রাজউকের মতো আরও ছয়টি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করা হয়েছে। এগুলো হলো—ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশাল। এর আগে আরও চারটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ছিল। পর্যায়ক্রমে বগুড়া নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনই পরিকল্পনা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে। এতে কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকে না। তাই সবাইকে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুমোদিত পরিকল্পনা ছাড়া ভবন নির্মাণ কিংবা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঠেকাতে নতুন বিধিমালা করা হচ্ছে জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, এ নিয়ে কাজ চলছে। মাসখানেকের মধ্যে বিধিমালাটি মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে। এটি পাস হলে আইন আরও শক্তিশালী হবে এবং তদারকি বাড়বে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ঢাকার প্রকৃত জনসংখ্যা কত, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। কেউ দুই কোটি, কেউ তিন কোটি জনসংখ্যার কথা বলেন। প্রতিদিনই মানুষ ঢাকায় আসছে এবং নতুন করে বস্তি গড়ে উঠছে। শুধু আইন প্রয়োগ করে বস্তি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না, সেটিও ভাবতে হবে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নগর পরিকল্পনা করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার আদলে বাংলাদেশে নগর পরিকল্পনা করলে হবে না। দেশের জমি, জনসংখ্যা ও নাগরিক সুবিধার বাস্তবতা বিবেচনায় পরিকল্পনা করতে হবে। লক্ষ্য হলো, ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাসহ বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা।

কনক্লেভে ‘জ্বালানি রূপান্তর: এলপিজি ও সোলার’ বিষয়ে আলোচনায় ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী নতুন নগর উন্নয়নের আগে কেন্দ্রীয়ভাবে এলপিজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি শহরের পরিকল্পনায় জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি শুরুতেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে এলপিজি সংরক্ষণ করা গেলে সেখান থেকে বাসাবাড়িতে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে এবং সিলিন্ডার বহনের প্রয়োজন কমবে।

‘নির্মাণে দেশীয় সক্ষমতা’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিএসএমএর সভাপতি এবং ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং জিএমইএবির সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস।

‘স্মার্ট-সবুজ আবাসন ও অর্থায়ন’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন এবং এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবন্তী দত্ত।

এ ছাড়া ‘প্রাথমিক আলোচনা ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি: আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ণ’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

কনক্লেভে দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণ, স্মার্ট ও সবুজ আবাসন, আবাসনে অর্থায়ন, নির্মাণ খাতে দেশীয় সক্ষমতা এবং জ্বালানি রূপান্তরে এলপিজি ও সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।