চার দফা দাবিতে রাজধানীতে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির মিছিল ও সমাবেশ

দ্রুত শ্রমিক স্বার্থের প্রকৃত প্রতিনিধি নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠন, গণতান্ত্রিক শ্রম বিধিমালা, সহজ ও হয়রানিমুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন এবং সব ধরনের অসৎ শ্রম আচরণ বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক স্বার্থের প্রকৃত প্রতিনিধি নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠন, গণতান্ত্রিক শ্রম বিধিমালা, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজীকরণ ও অসৎ শ্রম আচরণ বন্ধের ৪ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য  (২০২৪) তাসলিমা আখতার। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান এফ এম নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হযরত বিল্লাল, কেন্দ্রীয় সদস্য মামুন, সাহিদা আক্তার, আকলিমা আক্তারসহ অন্যান্য নেতারা।

সমাবেশে সংহতি জানান বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নেতা নুরুল হক নুর, ঢাকা প্রাইভেট কার ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আক্কাস মিয়া, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য সোহেলা রুমি।

বক্তারা বলেন, শ্রম আইন ২০২৬-এর নতুন আইনের ১৩৯(৬) ধারায় শিল্প সেক্টরের মজুরি ৫ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর পরপর  নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী এবং শ্রমিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শ্রমমন্ত্রী গত সপ্তাহে এ মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেন উল্লেখ করেন তারা।

তারা বলেন, গত ৩ বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে শ্রমিকদের নতুন মজুরির কোনও বিকল্প নেই। তাই প্রকৃত প্রতিনিধি নিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলের তিনটি মজুরি বোর্ডেই শ্রমিক বা নিরপেক্ষ প্রতিনিধি মূলত মালিকপক্ষের স্বার্থই বিবেচনা করেছে। নিরপেক্ষ প্রতিনিধিকে ‘পুতুলে’ পরিণত করার পুরোনো পথ পরিহার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পাটাতনে গঠন সরকার প্রকৃত প্রতিনিধি নিয়ে বোর্ড গঠন করবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।২০২৬ সালের শ্রম আইনে ইউনিয়ন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে ২০ শতাংশ এবং প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে ৩০ শতাংশের পরিবর্তে ২০ জন থেকে শুরু করার বিধান করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের জন্য একটি বড় অর্জন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে মোট ৫টি স্ল্যাবে ২০ থেকে ২০০ জনের জন্য ২০ জন, ২০১ থেকে ৫০০ জনের জন্য ৪০ জন, ৫০১ থেকে ১৫০০ জনের জন্য ১০০ জন, ১৫০১ থেকে ৩০০০ জনের জন্য ৩০০ জন এবং ৩০০১ জন বা তার বেশি হলে ৪০০ জন শ্রমিকের সমর্থনে ইউনিয়ন করার সুযোগ রয়েছে।

একইসঙ্গে ইউনিয়ন করার কারণে কারখানায় শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করাসহ নানা হয়রানি থেকে শ্রমিকদের মুক্ত করার জন্য সরকারের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা। তারা বলেন, শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রমিকের মর্যাদাপূর্ণ মজুরি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আন্দোলন চালিয়ে যাবে ন।