বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঞ্চলিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দিনাজপুরে রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সিসিলিতে উচ্চ বেতনে চাকরির চূড়ান্ত অফার পেয়েছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিষপাড়া গ্রামের মো. মুরাদ হোসেন।
দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাহিনীর চলমান উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত এই অর্জন।
মুরাদ হোসেন দিনাজপুরের বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঞ্চলিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অর্জিত কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
আগামী তিন মাসের মধ্যে সিসিলি থেকে তার ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আনসারের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসিলিতে চাকরির চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনে তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে বাহিনীর উদ্যোগে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে সাক্ষাৎকার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। এ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সফিপুর আনসার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং বাহিনীর সদর দফতরের প্রকল্প প্রশিক্ষণ পরিদফতরের পরিচালক। প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থানের পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই সহযোগিতা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তামূলক কার্যক্রমের প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে দিনাজপুর জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের সহযোগিতায় মুরাদ হোসেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পান। এর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও চাকরির অফার পেয়েছিলেন। তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে সে সময় তার দুবাই যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
পরে সিসিলিতে চাকরির চূড়ান্ত অফার পাওয়া তার কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বহুমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আওতায় জাপানি ভাষা শিক্ষা, ৬জি ওয়েল্ডিং, মেসন, ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অভিযোজন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সম্প্রতি সংযোজন করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাস। প্রশিক্ষণকে বাস্তব কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযুক্ত করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সহযোগিতার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুরাদ হোসেনের সিসিলিতে উচ্চ বেতনে চাকরির চূড়ান্ত অফার অর্জন এসব কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণের বাস্তব প্রয়োগ ও কার্যকারিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।