মেরিন একাডেমিতে ভর্তি ও দক্ষ নাবিক তৈরিতে কোনও আপস হবে না: নৌপরিবহন সচিব

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমিগুলোতে ক্যাডেট ভর্তি ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ নাবিক তৈরি করতে হবে, যারা বিশ্বব্যাপী সমুদ্র পরিবহন খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমিগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমিগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মেরিন একাডেমিগুলোতে ভর্তির আবেদন ও প্রক্রিয়াকরণ বাবদ সর্বমোট ফি এক হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় নৌপরিবহন সচিব বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের জন্য কারিগরি খাতে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করা।’

মেরিন একাডেমির প্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যাদের ভর্তি করবেন, তাদের অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। প্রশিক্ষণের মান ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করা যাবে না।’

নৌপরিবহন সচিব আরও বলেন, ক্যাডেট ও ক্রুদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করতে হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা বা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সব নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন।

দেশের মেরিটাইম খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের নাবিক তৈরি করা। তারাই ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ও বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে পারবেন।’

এ লক্ষ্যে প্রতিটি মেরিন একাডেমিকে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কঠোরতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় উপস্থিত মেরিন একাডেমিগুলোর প্রধানরা নৌপরিবহন সচিবের নির্দেশনাকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।