মেঘনায় গুলিতে জেলের মৃত্যু: স্বাধীন তদন্ত ও বিচারের দাবি এইচআরএসএসের

বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলে আক্তার হাওলাদারের (৪০) মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার (১ নভেম্বর) এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৯ অক্টোবর ভোরে হিজলা উপজেলার ওরাকুল ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় আক্তার হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে ও স্বজনেরা নৌ পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্যেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গুলি চালানোর তথ্য উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

তবে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, আহত জেলেদের সংখ্যা নিয়ে অসংগতি এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করে এইচআরএসএস।

সংগঠনটি বলেছে, ইলিশ সংরক্ষণ কিংবা আইন প্রয়োগের নামে নির্বিচারে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বা মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার এবং ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষার চূড়ান্ত প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

এইচআরএসএসের দাবি, অভিযুক্ত বাহিনীর বাইরে বিচার বিভাগীয় বা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর অভিযান ও টহলের তথ্য, ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির হিসাবসহ সব প্রাসঙ্গিক আলামত সংরক্ষণ এবং প্রকাশ করতে হবে।

পাশাপাশি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ, নিহতের পরিবারকে আইনি সহায়তা, আহত জেলেদের সুচিকিৎসা এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তদন্তে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের পদমর্যাদা নির্বিশেষে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও বলপ্রয়োগের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় জেলে পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস।

বিবৃতিতে সংগঠনটি আরও বলেছে, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা পরস্পরবিরোধী নয়। আইন প্রয়োগের নামে কোনও নাগরিকের জীবনহানি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক বাধ্যবাধকতা।