বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে দেখা গেছে সনিয়ার মা মনোয়ারা বেগম, নানি, দুই ভাই, এক খালা, তার বোন ও ভাইয়ের স্ত্রী বসে আছেন। তখন মর্গে সনিয়ার ময়নাতদন্ত চলছিল।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আমি সনিয়াকে ফোন দেই। বাসায় কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি আনিয়েছিলাম। তাই সনিয়াকে ফোন দিয়েছিলাম, যাতে দ্রুত বাসায় আসে। তখন সনিয়া ফোন ধরে বলে, মা আমি বনানীতে মিনু আপার বাসায়। আমার সঙ্গে কচিও আছে। আমরা একটু পরে বাসায় আসছি। এরপর আমার সঙ্গে আর কথা হয়নি।’
মনোয়ারা বেগম তার মেয়ের বিভিন্ন স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙে পরেন। সনিয়ার ভাই মো. ফারুক বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি ভোলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে শাহ আলী এলাকায় বসবাস করছি। এখানেই আমাদের বেড়ে ওঠা। সনিয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতো। কচি তার বান্ধবী। তারা একসঙ্গে চাকরি করতো। ভারত থেকে আমদানি করা কসমেটিক্সের দোকানে চাকরি করতো সনিয়া। সেখানে চাকরি করার সময় সৈয়দ মহসিন নামে এক ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নয় মাস আগে তার সঙ্গে ভারতে বিয়ে হয়। বিয়ের পর সে ছুটিতে বেড়াতে এসেছিল। তার স্বামীরও আসার কথা ছিল।’
এদিকে দুলদানা আক্তার কচির বাবার নাম সৈয়দ ফজলুল হক, মা রেখা আক্তার। তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর এলাকায়। তারা দুই বোন। বড় বোন চুমকি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। তবে বাড়িতে বেশি একটা যেতেন না কচি।
কচির মামা নুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কচি ও সনিয়া কল্যাণপুরে এক রুমের বাসায় ভাড়া থাকতো। তার বাবা-মা কেউ নেই। আপন বলতে তার বড় বোন। কচি পার্ল ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি কোম্পানির ট্যারিটরি ম্যানেজার ছিল। তবে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে সে কাজ করতো, আমরা তা জানি না। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে নিয়ে এসেছি।’
মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনের সামনে স্কুটার আরোহী সনিয়া ও কচিকে চাপা দেয় একটি গাড়ি। পরবর্তী সময়ে পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা রাত দেড়টার দিকে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় বনানী থানায় দুর্ঘটনাজনিত মামলা হয়েছে। তবে চাপা দেওয়া গাড়িটি এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা ঘাতক গাড়িটি শনাক্তে কাজ করছি। ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ফুটেজ দেখে ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
কচি ও সনিয়ার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুজনের শরীরে আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনাজনিত আঘাত বলে মনে হচ্ছে। তারপরও আমরা তাদের ভিসেরা সংগ্রহ করেছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে তাদের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে।’