আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি সংখ্যক কন্যাশিশু স্কুলে যাচ্ছে। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন থাকলেও তা নারীদের জন্য আরও সমতাভিত্তিক ও কম সহিংস পরিবেশ তৈরিতে সামান্য ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বব্যাপী নারীরা এখনও সহিংসতা এবং বৈষম্যের শিকার। ইউনিসেফ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও ইউএন উইমেন বুধবার (৪ মার্চ) নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
‘মেয়েদের জন্য একটি নতুন যুগ: ২৫ বছরের অগ্রগতির খতিয়ান’ শীর্ষক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে বিশ্বব্যাপী স্কুলের বাইরে থাকা মেয়েদের সংখ্যা কমে ৭ কোটি ৯০ লাখে নেমে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই বেশি আগ্রহী ছিল গত দশকে। তবুও নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এখনও নিয়মিত ঘটনা। ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের শনাক্ত করা গেছে তাদের ৭০ শতাংশই ছিল নারী। বিশ্বব্যাপী ১৫-১৯ বছর বয়সী প্রতি ২০ জনের মধ্যে এক নারী বা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ নারী তাদের জীবনে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে ১৫-১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের ৩৭ শতাংশ সন্ধ্যার পর একা চলাফেরায় নিরাপদ বোধ করে না। ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের অর্ধেকের বেশির বিয়ে হয় তাদের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই। প্রায় ২৪ শতাংশ নারী অপরিণত বয়সে সন্তানের জন্ম দিচ্ছে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, পঁচিশ বছর আগে বিশ্বের সরকারগুলো নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা কেবল তার আংশিক সুবিচার করতে পেরেছে। যদিও বিশ্ব অনেক বেশি সংখ্যক কন্যাশিশুকে স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে অনেক রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তবে নিজেদের ভাগ্য গঠনের পাশাপাশি নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য তাদের যে দক্ষতা ও সহায়তা প্রয়োজন তা প্রদানে বিশ্ব পিছিয়ে রয়েছে।