গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান এইচআরএফবি’র

হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)

দেশের নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। শনিবার (৯ মে) ফোরামের সমন্বয়ক তামান্না হক রীতি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ আর আতঙ্কের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, করোনাভাইরাসের এ সংকটকালীন সময়ে আমাদের দেশে নানাভাবে নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি, হুমকি বা আক্রমণ করা হচ্ছে। সরকার বা সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমালোচনা করার কারণে নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতি দ্রুত তাদের গ্রেফতার করছে।
এতে আরও বলা হয়, জাতীয় দৈনিকগুলো ও নিজস্ব উৎস থেকে সংগৃহীত আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম চার মাসে ৮৫ জন সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানি বা আক্রমণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শুধু এপ্রিল মাসেই ৩৪ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছে। অন্যদিকে বহুল বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন উদ্বেগজনকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে। আসক এর তথ্য থেকে আরও জানা যায়, ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যার মধ্যে ২০ জন সাংবাদিক, ১ জন ব্লগার, ১ জন কার্টুনিস্ট এবং অন্যান্য পেশার ১৯ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৭ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এ ধরনের পোস্টে কমেন্ট, লাইক ও শেয়ার করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে বলা হয়, আমরা জানি জনগণের স্বার্থে সরকার বিভিন্ন ধরণের গুজব ও ভুল তথ্য প্রচার প্রতিহত করতে আগ্রহী। কিন্তু বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রচার ছাড়া তা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক তৈরি করছে এবং সেল্ফ-সেন্সরশিপকে আরও বেশি পোক্ত করছে যা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত মুক্তি প্রদান এবং আইনটি সংশোধন করার দাবি জানায় সংগঠনটি।