ধর্ষণের প্রতিবাদে তৃতীয় দিনেও উত্তাল শাহবাগ

ছবি: সাজ্জাদ হোসেননোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে লাগাতার গণজমায়েত কর্মসূচির মাধ্যমে তৃতীয় দিনেও উত্তাল ছিল রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা৷ বুধবার (৭ অক্টোবর) পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গণজমায়েত ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ একাধিক প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা৷

এছাডা় শাহবাগে ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ, 'সেইভ আওয়ার উইমেন' নামের একটি প্ল্যাটফর্মসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়৷ এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্যে 'টিম পজিটিভ বাংলাদেশ' নামের আরেকটি সংগঠন এবং 'ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমরা মাদারীপুরবাসী' ব্যানারেও মানববন্ধন হয়৷

শাহবাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি পালন করে বিক্ষোভকারীরা ৷ এই সময় বক্তারা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের পদত্যাগের দাবি জানান।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গতকাল পুলিশ লাঠিচার্জ করে৷ এরমধ্য দিয়ে পুলিশ প্রমাণ করে যে, তারা ধর্ষকের পক্ষে৷ আমরা তিন দিন ধরে গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করে আসছি৷ সারাদেশে ধর্ষণ প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছ৷ দুঃখজনক এখনও এই বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিপাত দেখছি না৷ ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে৷'

লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, 'যে রাষ্ট্র ধর্ষক পোষে, সে রাষ্ট্র চাই না। ধর্ষক লীগের আস্তানা, জালিয়ে দাও; পুড়িয়ে দাও।' 'ধর্ষকদের শাস্তি দাও, নয়তো গদি ছেড়ে দাও', 'আমার বোন ধর্ষিতা কেন? শেখ হাসিনা জবাবা চাই!'

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স৷ তিনি বলেন, দেশে লাগাতার যে ধর্ষণ চলছে তার জন্য বর্তমান সরকার ও তার পোষা প্রশাসনই দায়ী। ধর্ষণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছে, তা খুবই হতাশাজনক। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। আমরা সকল ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।'

অবস্থান কর্মসূচিতে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা, পেশাজীবী, সংগঠকসহ প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।