আগুন নেভাতে বেগ পেতে হল কেন?
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, পুরো ভবনটি করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। আশেপাশে কোনও জায়গা ছাড়া হয়নি। ১০তলা ভবনটির প্রায় পুরোটা্তই পদার্থ ভরপুর ছিল। আগুন নেভানোর জন্য কাজ করার কোনও পরিবেশ নেই। একটি মাত্র সরু রাস্তা। সেই রাস্তার দুই দিকে খাল। ঝুঁকিপূর্ণভাবে ল্যাডার লাগিয়ে ক্রেন উঠানো হয়েছে। ক্রেন ঘুরিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। ক্রেন ছাড়া অন্য কিছু এখানে ব্যবহারও করা যাচ্ছে না। যার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে।
ছয় তলার আগুন ছড়িয়ে পরে পুরো ভবনে?
পাশা টাওয়ার নামের বহুতল ওই ভবনে বিকেল পাঁচটার দিকে ষষ্ঠ তলায় আগুন লাগে। তার আগে বিকাল চারটার দিকে ছুটি হয় ওই ফ্লোরের কর্মীদের। একপর্যায়ে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় তা ওপরের ১০তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, শুধু ছয়তলায় লাইটসহ ইলেকট্রনিকস পণ্যের রয়েছে। পরবর্তীতে জানা যায়, পুরো ভবনটি এনার্জি লাইটিং লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের গুদাম। যার কারণে দ্রুত অন্য তলাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে ভবন মালিক বলছেন, চায়না থেকে আমদানিকৃত এলইডি লাইট গুদামে রাখা ছিল। সেখানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মালামাল ছিল। যার সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে কোনও মানুষ হতাহতের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
আগুনের সূত্রপাত
ফায়ার সার্ভিস বলছে, ভবনটির ষষ্ঠতলা এনার্জি লাইটের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেখানেই মূলত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে সেটা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহূর্তেই আগুন অন্যান্য ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকাল ৫টার রাজধানীর ডেমরায় কোনাপাড়া মাদ্রাসা রোডের পাশা টাওয়ারের লাইট কারখানার আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১৫০ জন সদস্য এছাড়াও র্যাব, পুলিশ, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা। ভবনের ছয়তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।