নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদারের আহ্বান

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের চেতনায় নারীর মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করা এবং নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম।

শুক্রবার (১২ই মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নারী গণসমাবেশ,মিছিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান বক্তারা।

সমাবেশে  নারী দিবসের সংগ্রামী চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, মুনাফাভিত্তিক পুঁজিবাদী সমাজের ভোগবাদ নারীকে অধিকার দেয় না, মর্যাদা দেয় না বরং পুরুষতন্ত্রকে জিইয়ে রাখে। বক্তারা এক নতুন মানবিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার তথা সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানান। যেখানে প্রত্যেক মানুষ পাবে তার মানবিক অধিকার ও মর্যাদা। প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন তথা সামাজিক সুবিচার, যা ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা ও অঙ্গীকার। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের চেতনার মূলেও ছিল শোষণ-বৈষম্যহীন সাম্য সমাজ গড়ার আহ্বান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু এবং সঞ্চালনা করেন  কেন্দ্রীয় সংগঠক রুখসান আফরোজ আশা।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন,‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাসে এসে আমরা দাঁড়িয়েছি। সেরকম একটি সময়ে আমরা যদি হিসাব করি— দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী যে নারী সমাজ, তারা আজ কোন পর্যায়ে আছে! তারা কি সেই সমান অধিকারের মর্যাদার পর্যায়ে পৌঁছেছে? এখানে আমরা খুব বড় ধরনের ফাঁক দেখতে পাই। আমরা দেখতে পাই, সংবিধানেই নারীরা সমান অধিকার পাইনি। সংবিধানে একদিকে বলা হয়েছে, সব জায়গায় নারীরা সমান অধিকার পাবে,অন্যদিকে ধর্মীয় আইন বলবৎ করে রাখা হয়েছে। সেখানে সন্তানের অভিভাবকত্বের প্রশ্নে,বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের প্রশ্নে নারীরা সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  আমাদের ঘোষণা দেওয়া হয়, আমরা নাকি সারা বিশ্বে জেন্ডার ইস্যুতে রোল মডেল হয়ে গেছি। বাস্তবতায় আমরা  কী দেখতে দেখতে পাই! কলকারখানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, শহীদ মিনারে-বাংলাদেশে এমন কোনও জায়গা পাওয়া যাবে— যেখানে নারীরা নির্যাতনের শিকার হন না?'

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিপ্রা মণ্ডল বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। অল্প কয়েকজন নারীর ক্ষমতায়নের নিচে এই পুঁজিবাদী সমাজ  অসংখ্য নারীর অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনকে চাপা দিয়ে রাখতে চায়।’

শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী বলেন,‘ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনের নিগড়ে আমরা নারীরা আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছি। করোনা দুর্যোগ অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশের নারীদের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। নারীরা তাদের কাজ-কর্ম হারিয়ে দারিদ্র্য সীমার নিচে অবস্থান  করছে।  এই করোনাকালে নারীদের ওপর নির্যাতনের হার দুই গুণ-তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ নারীদের স্বাধীনতা বিপন্ন। নারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকার একেবারে উদাসীন।’

সমাবেশে আরও  বক্তব্য রাখেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন কণা, সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামাম, সিপিবি নারী কাউন্সিলের আহ্বায়ক লক্ষ্মী চক্রবতীসহ প্রমুখ।