‘অধিকার আদায়ে নিবেদিত প্রাণে মিলি সবে আদিবাসী যুব সম্মেলনে’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীতে শুক্রবার (১৯ মার্চ) শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপী আদিবাসী যুব সম্মেলন। শনিবার (২০ মার্চ) সম্মেলনের শেষ দিন। এদিন আদিবাসী যুব ফোরামের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথমবারের মতো সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি তার বক্তব্যে তরুণদের হতাশা ঝেড়ে ফেলে সময়কে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি আদিবাসী যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘হতাশ হওয়া যাবে না, হতাশা যেকোনও কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।’ তিনি ভূটান ও মালদ্বীপের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ওই দুই দেশে যে জনসংখ্যা তার চেয়ে তোমরা (আদিবাসী যুবা) সংখ্যায় বেশি। এ দেশে ৪০ লাখ আদিবাসীর মধ্যে যুব শ্রেণির সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ, যা ওই দুই দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। ফলে হতাশ হওয়া যাবে না।’
বিশেষ অতিথির ব্ক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ‘আদিবাসী যুব ফোরামে কেবল শিক্ষিতরাই যেন না থাকে— যারা বাঁশি বাজিয়ে প্রতিবাদ করে, জুম চাষ করে, তারাও যেন এ কমিটিতে থাকে। তাহলে যুব ফোরাম হবে সবার।’
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং আদিবাসী তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘হতাশ হলে চলবে না। স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেলে চলবে না। স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। অনেক খারাপ সময় আসবে, কোনও কিছুই ঠিকঠাকভাবে হবে না, তবুও হতাশ হওয়া যাবে না। হতাশ হলে কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, গতি কমে যায়।’ বরং উপায় বের করে দ্বিগুণ বেগে ঝঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি তরুণদের। তিনি পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে আরও যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা সামনের দিকে এগোতে দেবে না।’
অনুষ্ঠানে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বক্তব্য রাখেন। এর আগে আদিবাসী যুব ফোরামের সদস্য চন্দ্রা ত্রিপুরার শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী যুব ফোরামের আহ্বায়ক অনন্ত বিকাশ ধামাই।
সম্মেলনে আদিবাসী যুব ফোরাম ৯ দফা দাবি উত্থাপন করে।