সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে বাড়ি ও মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকাল পাঁচটায় শাহবাগের জাতীয় গ্রন্থাগারের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান সুমন।
সমাবেশে উদীচীর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি বিমল মজুমদার বলেন, ‘৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত একটি গণতান্ত্রিক দেশে একজন নাগরিক আরেকজন নাগরিকের সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার জন্য এভাবে তার বাড়িতে, গ্রামে আক্রমণ হবে?’ তিনি বলেন, ‘আমার দেশ যেহেতু গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে না, দেশে যেহেতু গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র না থাকলে সেখানে স্বৈরতন্ত্র থাকবে, আর এমন পরিস্থিতিতে যা হবার তা-ই হয়েছে। সেখানে মানুষ সমাবেশ করে নাগরিকের ওপর হামলা চালিয়েছে। লুটপাট করেছে, মন্দির ভেঙেছে। আমার দেশ যেহেতু নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ করে না, সেই কারণে দুষ্টচক্র এ ধরনের কাজ করে যাচ্ছে এবং একের পর এক পার হয়ে যাচ্ছে।’
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা জাতির জন্য লজ্জাজনক। বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা আজ কেবল নথিতে লিপিবদ্ধ, বাস্তবে এর কোনও প্রতিফলন আমাদের সমাজে নেই, বরং ক্রমশ বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে। এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের আপসকামিতার কারণে। বছরের পর বছর ধরে বিচারহীনতার কারণেই আজ ভয়ংকররূপে হাজির হয়েছে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী। এর দায় সরকার এড়াতে পারে না।
এ সময় বক্তারা সুনামগঞ্জের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেন। একইসঙ্গে অবিলম্বে গ্রেফতার ঝুমন দাসের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তারা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, ইকবালুল হক খান, আরিফ নূর, কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য একরাম হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা আকরামুল হক, সংস্কৃতিকর্মী জীবনানন্দ জয়ন্ত, লেখক মারুফ রসুলসহ অনেকে।