বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি সুলতান কামাল বলেছেন, নদী রক্ষায় আইন প্রয়োগ সমভাবে হয় না, সুষ্ঠুভাবে হয় না। যেখানে ক্ষমতা যুক্ত সেখানে প্রয়োগ হয় না। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নদী মানুষের, জনগণ এর মালিক। পদ্মা মেঘনা যমুনাকে যদি আমরা বাঁচাতে না পারি, তাহলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। কাজেই নদী রক্ষায় আমাদের শক্ত অবস্থান নিতে হবে। কৌশল নির্ধারণে আমরা কাজ করবো।’
সোমবার (২২ মার্চ) ‘কেমন আছে বাংলাদেশের নদী' শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন, জাতীয় নদী জোট, কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর এবং ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। বাপার সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন— বেন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বাপার সহ-সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম ও অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়কারী এবং বাপার নির্বাহী সহ-সভাপতি ড. মোহা. আব্দুল মতিন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য এবং জাতীয় নদী জোটের আহ্বায়ক শারমীন মুরশিদ এবং কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর এর চেয়ারম্যান ড. দিবালোক সিংহ।
মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘নদী রক্ষায় দফতরগুলো যেন কাজ করে। সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকারসহ সবাইকে জাতীয় নদী রক্ষায় পাশে থাকতে হবে। এটি না হলে একা কাজ করা সম্ভব নয়। এটা না হলে কমিশন গত তিন বছর যা কাজ করেছে, তার ফল পাওয়া যাবে না। ঢাকার চারপাশের নদী নিয়ে কাজ চলছে।’ তিনি বলেন, ‘আইন আছে, কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। এই প্রয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। ড্রেজিং এর প্রয়োজন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক করা দরকার। জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে ফুড সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হলে পানির চাহিদা দিন দিন বাড়বে। প্রয়োজনে নদীর পানি বাড়াতে হতে পারে।’
দিবালোক সিংহ বলেন, ‘পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে।পানির দাম বাড়ছে। অথচ পানির কোয়ালিটির কোনও উন্নয়ন নাই। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গণশুনানি হতে পারে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। গ্রামের চেয়ে শহরে পানির দাম কম। ঢাকার আশেপাশের নদীগুলো বায়োলজিক্যালি এখন মৃত। শিল্প বর্জ্য মানুষের বর্জ্য সমানে সেখানে ফেলা হয়। পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক হচ্ছে। এটি অনুধাবন করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
শারমিন মুরশিদ বলেন, ‘নদী নিয়ে কাজ করে মূলত পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। এ কারণে কিছু তথ্য আমরা জানতে পারছি। গত ছয় বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই অবস্থা চলতে থাকলে এদেশের নদীকে রক্ষা করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থার জঘন্য রূপ এখন আমরা দেখতে পাই। ব্যবসার কাজে সবই চলে আর সব অবহেলিত। আমরা দস্যুদের সঙ্গে পেরে উঠছি না। আইনের প্রয়োগ অনেক কঠিন হতে হবে। শাস্তির ব্যবস্থা হতে হবে অনেক কঠোর। ক্রমাগত চাপ দিয়ে যেতে হবে। কিভাবে এই চাপ দেবো সেটাই আমাদের ভাবতে হবে।’
আব্দুল মতিন বলেন, ‘নদী দূষণের ক্ষেত্রে আমরা অনেক কথা বললেও বাস্তবে কাজ খুব কমই হচ্ছে। নদীর আশেপাশের শিল্প কারখানাগুলোসব বর্জ্য, লঞ্চ স্টিমারের মানববর্জ্য এখনও সরাসরি নদীতেই ফেলা হচ্ছে। এদিকে নদীর পাশাপাশি এখন দেশের বড় বড় বিলগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘শিল্প মালিকরা এখনও ইটিপি করতে চান না, এ নিয়ে সরকারও সিরিয়াস নয়। এগুলো বন্ধ করা না গেলে নদীর দূষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের চাপে শিল্প মালিকরা মাটির গভীরে পাইপ দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে শিল্পবর্জ্য নিয়ে ফেলছে। তাতে আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অচিরে এই জিনিস বন্ধ করা না গেলে আমাদের খাওয়ার পানির উৎস একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে।’