অনেক জল্পনাকল্পনার পর গত ১৮ মার্চ শুরু হয় বইমেলা। শুরু থেকেই মেলায় ক্রেতার তেমন একটা সাড়া পাচ্ছেন বিক্রেতারা। এরই মাঝে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় মেলায় বই বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা।
কথা প্রকাশের কর্মী জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রির পরিমাণ খুবই কম। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পাঠকদের আগমন কম। আমরা প্রথম থেকেই বিক্রি নিয়ে আশঙ্কায় থাকলেও কিছুটা আশায় ছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বই বিক্রিতে অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে।’
অক্ষর প্রকাশনীর ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা বিবেচনায় বিক্রি মোটামুটি ছিল। তবে করোনার সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। সামনে হয়তো আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বিক্রি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
জোনাকি প্রকাশনীর বিক্রয় কর্মী মিজান বলেন, ‘শুরু থেকেই বিক্রি কম। আমরা আশায় ছিলাম আগামী দিনগুলোতে বিক্রি বাড়বে। কিন্তু বর্তমান মহামারির পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।’
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) মেলার ষষ্ঠ দিনে ১১৮টিসহ মেলায় এখনও পর্যন্ত নতুন বই এসেছে ৪৯৭টি।
বইমেলার মূলমঞ্চে মঙ্গলবার বিকাল চারটায় অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: মুক্তিযুদ্ধ ও নারী' শীর্ষক আলোচনা সভা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সেলিনা হোসেন এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনিরুজ্জামান শাহীন।
মুনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘সাধারণত মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকাকে দেখা হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হিসেবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে আমাদের দেশে নারীসমাজের রয়েছে অসাধারণ ভূমিকা। দেশমাতৃকার টানে জীবন বাজি রেখে তাদের অনেকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ ও রণাঙ্গনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। সংগঠকের দায়িত্ব পালন, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দান, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে থাকা, শত্রুশিবিরের তথ্য সংগ্রহ করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেন নারীরা। নারীদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভ সহজ ছিল না।’
সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, ‘নারী-পুরুষের যৌথ শক্তিতেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সফলতা লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নারীরা যে অসীম সাহস ও বীরত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন, তা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ ছাড়াও নারীরা সমাজের নেপথ্য-শক্তি হিসেবে সমাজ-কাঠামো ধরে রেখেছিল বলেই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছিল।’
আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং একেএম জসীমউদ্দীন।