করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহনে চালাতে বলেছে সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাইডশেয়ারিং সার্ভিসগুলো। যদিও ৫০ শতাংশ জনবলে অফিস চালাতে বলা হয়েছে, তবে সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ অফিসই চলছে আগের মতো সব কর্মীকে নিয়ে। এই অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন রাজধানীবাসী। অফিসযাত্রীরা যেমন যানবাহন না পেয়ে দুর্দশায় পড়েছেন, তেমনি আয়ের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেছেন রাইড শেয়ারিং এর চালকরা। ফলে রাজধানীতে অফিসটাইমে আগে আগে দীর্ঘ যানজটও দেখা গেছে।
মোটরসাইকেলে যাত্রী তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন চালকরা। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কয়েশ’ মোটরসাইকেল চালক তাদের যান রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শাহবাগ এলাকা অবরোধ করেন রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল চালকরা। তবে ১০-১৫ মিনিটের মতো সময় রাস্তা আটকে রাখার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
মোটরসাইকেল চালকরা জানান, চাকরি না থাকায় সংসার চালাতে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করেন তারা। সরকারের নির্দেশনায় গণপরিবহন চললেও মোটরসাইকেল বন্ধ করে তাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে।
আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসস্ট্যান্ডে এসেও বাসে উঠতে না পেরে বিক্ষোভ করেছেন অফিসগামী যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর খিলক্ষেতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর খিলগাঁও, বাসাবো, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, গুলিস্তান, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৎস্যভবন, শাহবাগ, বাংলামোটর এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পরিবহন চালকরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি অর্ধেক নিশ্চিত হয়নি। যে কারণে গণপরিবহনের জন্য যাত্রীর চাহিদা আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু আসন সংকুলান অর্ধেক।
বাসগুলো যাত্রী না তোলায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকসহ অন্যান্য পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ছবি