দেশে করোনা সংক্রমণ রোধে এক সপ্তাহের লকডাউন দিতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এই লকডাউন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করলেও জনমনে প্রশ্ন , সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি কেন?
দেশে করোনা সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে মার্চের প্রথম সপ্তাহে। গেল ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণের হার ২ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে তা ২৪ শতাংশ। আর অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে করোনা শনাক্ত হয়েছে একদিনে প্রায় ৭ হাজারের কাছাকাছি।
জনমনে লকডাউনের ঘোষণায় সন্তোষ আছে ঠিকই কিন্তু তাদের প্রশ্ন এই ঘোষণা এত দেরিতে কেন। তাদের মতে, লকডাউন আগে দিলেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।
রাজধানীর পল্টন এলাকায় লকডাউন প্রসঙ্গে কথা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী রাহাত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশ লকডাউন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেই করোনা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছে। আমাদের দেশে অফিস- আদালত খোলা , মানুষের অবাধ যাতায়াত, এই অবস্থায় সামাজিক দূরত্ব কিভাবে মানা সম্ভব। শুধু তো মাস্ক পড়ে ঘুরলে চলবে না, সামাজিক দূরত্বও মানতে হবে। তার জন্য জনসমাগম যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী আসলাম প্রতিদিনই ঢাকায় যাতায়াত করেন ব্যবসার কাজে। তার মতে লকডাউনে আয় রোজগারে সমস্যা হলেও সেদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া দরকার ছিল। আগে থেকে সিদ্ধান্ত নিলে একটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থাকে। হঠাৎ করে বললে অনেক মানুষই বিপদে পড়ে। দেশের করোনার যে অবস্থা অন্য দেশে হলে বাড়তির শুরুর দিকেই সবাইকে ঘরে আটকাতে বাধ্য করতো।
গুলিস্তান এলাকার ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, সীমিত সময়ের জন্য লকডাউন খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু গতবছরের মতো টানা কয়েকমাস হলে অনেকেই সমস্যায় পড়বে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে আমাদের জন্য এর চেয়ে ভালো বিকল্প আর নেই। কারণ আমরা বেপরোয়া চলাচল করি কোনও কিছু মানি না। লকডাউনের সিদ্ধান্ত ঠিক আছে না হলে আমাদের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। তবে আরও আগেই দেওয়া দরকার ছিল।