বাসের পাশাপাশি লঞ্চ ঘাটেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শনিবার (৩ এপ্রিল) সরকারের কর্তৃক সাতদিনের লকডাউন ঘোষণার পর থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে জনস্রোত দেখা দেয়। এতে স্বাস্থ্য বিধি না মানায় করোনা সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন সাধারণ মানুষ।
লঞ্চগুলোর ডেক শ্রেণীতে বর্ধিত ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় চলাচলরত লঞ্চগুলো সেই নির্দেশনা মানেনি। উপরন্তু ঈদের মতো গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। এছাড়া আদায় করা হচ্ছে বর্ধিত ভাড়া।
সদরঘাট থেকে হাতিয়া রুটে চলাচলকারী পরিবহন এমভি তাশরীফ লঞ্চে যাত্রীধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৯০০ জন। কিন্তু তাতে ৫০ শতাংশ যাত্রী বহন করলে সাড়ে ৪শ’ যাত্রী পরিবহন করার কথা। কিন্তু লঞ্চটি শনিবার সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে সদরঘাট থেকে যাত্রা দেয় বলে জানিয়েছেন নৌযানটিতে থাকা কয়েকজন যাত্রী।
লঞ্চটি করে হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদের মতো ভিড়। অর্ধেক যাত্রী নেওয়া তো দূরের কথা বরং স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি নিয়ে লঞ্চটি ছেড়েছে। সেদিকে কর্তৃপক্ষের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই।
একই অবস্থা অন্যান্য লঞ্চগুলোতেও। নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্দরে অবস্থানরত প্রতিটি লঞ্চই ভর্তি হয়ে যায়। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না তুলতে কর্তৃপক্ষের কোনও তদারকি দেখা যায়নি। লঞ্চগুলো অর্ধেকের পরিবর্তে দ্বিগুণের মতো যাত্রী পরিবহন করলেও সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়া আদায় করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। লকডাউন ঘোষণার পর থেকে গ্রামের বাড়িতে ফেরার জন্য মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেশি দেখা দেয়। লঞ্চ মালিকরা বলছেন, যাত্রীদেরকে স্বাস্থ্য বিধি বিষয়ে বার বার সতর্ক করলেও কেউ তা পালন করছে না।
অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলীকে পাওয়া যায়নি।