দিনের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে টার্গেট ঠিক করে রাতে গ্রিল ভেঙে চুরি করতো একটি চোরচক্র। চুরি করা ল্যাপটপ ও মোবাইল অনলাইন প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো। এজন্য ব্যবহার করা হতো ভুয়া নিবন্ধিত সিম। প্রযুক্তির সহায়তায় এ চোরচক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
বুঝবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজধানীর ডেমরা ও কদমতলী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- আব্দুল গাফফার (দলনেতা), নজরুল ইসলাম ওরফে সোহাগ, রিপন, মাসুদ তালুকদার ও মাসুদ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল সেট, ৭টি ল্যাপটপ ও ১৮টি মোবাইল সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক জানান, এই চক্রের সদস্যরা রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও টঙ্গী এলাকার বাসা ও অফিসের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি মূল্যবান সামগ্রী চুরি করত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি আরও বলেন, এ চক্রের সদস্যরা দিনের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে টার্গেট ঠিক করে। তাদের মধ্যে রিপন পিকআপ গাড়ি নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করত। আব্দুল গাফফার ও মাসুদ বাইরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করত। গ্রিল ভেঙে বাসা বা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করতো নজরুল ওরফে সোহাগ। চুরি করা মালামাল পিকআপ যোগে গাফফারের বাসায় নিয়ে ভাগাভাগি করতো। মাসুদ তালুকদার ল্যাপটপ ও মোবাইল অনলাইন প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো। বিজ্ঞাপন দেওয়ার কাজে সে ভুয়া নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করতো।
গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ রাতে বিমানবন্দর থানার উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের প্রপার্টি কানেক্ট এর অফিসে কৌশলে প্রবেশ করে চোর চক্রটি। সেখান থেকে একটি আইপ্যাড, একটি আইফোন ৪টি, ১২/১৪টি মোবাইল, দুটি ল্যাপটপ ও নগদ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জনৈক মো. ওয়ালিউল আজিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (সোমবার) বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের হয়। এই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।