দুই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বে চলা রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় জাল টাকার একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। এ সময় কারখানার মহাজনসহ তিন পুরুষ ও এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
রবিবার (২ মে) দুপুরে কামরাঙ্গীরচরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ।
ডিবির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান খান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কামরাঙ্গীরচরের নোয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকার একটি বাড়িতে এই কারখানা পাওয়া গেছে। এ সময় একজন নারী ও তিন জন পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত তিন পুরুষ হলো, জীবন, পিয়াস ও ইমাম। এছাড়াও চক্রের নারী সদস্য একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত জীবন এর আগেও জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে একাধিকবার জেল খেটেছে। জামিনে বের হয়ে ফের জাল টাকার ব্যবসা করে। এছাড়া পিয়াস বরিশাল পলিটেকনিক্যাল থেকে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে ডিপ্লোমা করেছে। পিয়াস একসময় গ্রামীণফোনে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলো। ইমাম বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজ থেকে পাওয়ারের ওপর ডিপ্লোমা করেছে। বেশি টাকা প্রাপ্তির লোভে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে জাল টাকা তৈরির কাজে যোগদান করে।
এই ২ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের তৈরি জাল টাকার কোয়ালিটি যথেষ্ট উন্নত বলেও জানায় ডিবি।
গ্রেফতারকৃতদের বাসার বিছানার জাজিমের নিচ থেকে তাদের তৈরিকৃত ৪৬ লাখ টাকা এবং বাসার ভেতরে জাল টাকা তৈরির দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, হিট মেশিন, বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন, ডাইস, জাল টাকার নিরাপত্তা সুতা, বিভিন্ন ধরনের কালি, আঠা এবং স্কেল কাটারসহ আরও অনেক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। যা দিয়ে আরও কম করে হলেও দেড় কোটি জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব হতো।
ডিবি জানিয়েছে, লকডাউন একটা সহনশীল পর্যায়ে চলার কারণে এবং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিপণিবিতান/দোকানপাট খুলে দেওয়ায় চক্রটি জাল টাকা তৈরি করার কাজ আরও জোরেশোরে শুরু করেছে। শুরুতে এই চক্রটি সাভারের গ্যানদা এলাকায় জাল টাকা তৈরি করতো। কিন্তু ঈদ সামনে রেখে তিন মাস আগে ঢাকায় তাদের কারখানা চালু করে। আসন্ন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে জাল টাকা তৈরি করার বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।