মশা নিয়ন্ত্রণে নিজেকে সফল দাবি করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ঢাকার ইতিহাসে এযাবতকালে সবচেয়ে সুষ্ঠুভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। এজন্য ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (১৯ মে) দুপুরে দায়িত্ব পালনের একবছর উপলক্ষে নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
মেয়র বলেন, গত ও আগের বছর ডেঙ্গুর কারণে প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে গত একবছর কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। আমরা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কিউল্যাস্ক মশা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মার্চ মাসের ১৪ তারিখের মধ্যেই আমরা সব নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। তার সুফল এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত ঢাকাবাসী পেয়েছে। এছাড়া ঢাকাবাসী যখন যেভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন আমরা তা সমাধান করেছি। এখন আমরা বছরব্যাপী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং সফলতা পেয়েছি।
মেয়র বলেন, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও বক্স কালভার্টগুলো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দায়িত্ব পেয়েই ২টি বক্স কালভার্ট ও ৪টি খাল হতে বর্জ্য ও পলি অপসারণ কার্যক্রম শুরু করি। একইসঙ্গে সেসব খালের সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলে থাকা জায়গা পুনরুদ্ধার করেছি। এখন পর্যন্ত খাল ও বক্সকালভার্ট থেকে ১০ লক্ষাধিক টন পলি ও বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি।
মেয়র আরও বলেন, আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ ও পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে লক্ষ্মীবাজার খেলার মাঠ ও মালিটোলা পার্কের উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করে তা সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৪টি পার্ক ও ২টি খেলার মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও ৬টি পার্ক ও ৫টি খেলার মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলব।
মেয়র তাপস বলেন, মানিকনগর ও কাঁঠাল বাগান এলাকায় কাঁচা বাজার নির্মাণসহ মার্কেট নির্মাণ কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নকশা ও ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর হতে ১০ থেকে ১২টি স্থানে কাঁচা বাজার নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত জমির মালিক বিভিন্ন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বিধায় তা সম্পত্তি বিভাগ কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এসময় প্যানেল মেয়র শহিদুল্লাহ মিনু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।