‘ঢাকা দক্ষিণে ৫ বছরে যা করেছি পাঁচ যুগেও তা হয়নি’

নিজের দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য যে পরিমাণ উন্নয়ন কাজ করেছেন তা বিগত পাঁচ যুগেও হয়নি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সংস্থাটির সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে নাগরিকদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অন্ধকার ঢাকাকে এলইডি বাতিতে আলোকিত করেছি। লাখ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি। বিনা পয়সায় লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছি। এক পয়সাও হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াইনি। ভঙ্গুর পুরান ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন অভিযানের মাধ্যমে গিনেস বুকের মুকুট পরিয়েছি। এভাবেই আমি গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

সোমবার (৩১ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সাঈদ খোকন বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাস্তাঘাট নষ্ট ছিল, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেত। ঢাকার উন্নতির জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। অলিগলি রাতের অন্ধকারে ডুবে থাকতো, সেই পুরান ঢাকাকে এলইডি বাতির আলোয় আলোকিত করেছি।

সাবেক এই মেয়র শহরে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার কোনও জায়গা ছিল না মন্তব্য করে বলেন, জলসবুজের প্রকল্প নিয়েছি। এলাকায় এলাকায় মাঠ-পার্ক গড়ে তুলেছি। এগুলো আপনাদের এলাকায় দৃশ্যমান। এসব কাজ ৯০ শতাংশ শেষ করেছি, ১০ শতাংশ রয়েছে আশা করি নতুন নেতৃত্ব এটি সম্পন্ন করবে।

সাঈদ খোকন বলেন, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া নিয়ে আপনারা (নগরবাসী) ফোন করেছেন, আমি আপনাদের বাসায় স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়েছি। চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। শুধু প্রেসক্রিপশন নয় বিনামূল্যে ওষুধও দিয়েছি।

লাখ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়র থাকাকালীন সময়ে দিনে মাত্র সাড়ে ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। পুরান ঢাকায় হাজারো সমস্যা রয়েছে, এগুলো সমাধান করেছি। আজিমপুরে যে মসজিদ বানিয়ে দিয়েছে তা শুধু বাংলাদেশে নয়, ইউরোপ-আমেরিকার মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে। তিনি বলেন, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্ন অভিযান করেছি, এটি শুধু জাতীয় নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার সময়ে এক পয়সা হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। এর পেছনে প্রধানমন্ত্রীর অবদান ছিলো। আমি যখনই তার কাছে প্রকল্প নিয়ে গিয়েছি, তিনি অনুমোদন দিয়েছেন।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল ইসলাম সুমন। সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সাদেক মিঠু প্রমুখ।