বৃষ্টিতে রাজধানী জুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত টানা ৩ ঘণ্টা ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। কোনও কোনও সড়কে জমেছে হাঁটুপানি। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে মানুষের বাসা বাড়িতেও ঢুকে পড়েছে পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষকে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
.মঙ্গলবার (১ জুন) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সামনে, মালিবাগ, মৌচাক, মতিঝিল, গুলিস্তান, কাওরান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, রামপুরা, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর সড়কে পানিএসব এলাকা হয়ে যারা অফিস বা কাজে যোগ দিতে বের হয়েছেন তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অনেক কর্মজীবী মানুষকে পানির মধ্যে প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আবার অনেক মানুষকে পানি ডিঙিয়ে অফিসে পথে যাত্রা করতে দেখা গেছে। পরিবহনের জন্য মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে।
.প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে। কিন্তু কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেই দুই সিটি করপোরেশনের। অথচ এই খাতে বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে সংস্থা দুটি। বৃষ্টি হলেই নগরীর অলিগলি ও ছোট পরিসরের রাস্তাগুলোতেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। রাজধানীর পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় দ্রুত পানি নামতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
সকালে রাজারবাগ, খিলগাঁও রেলগেট, মালিবাগ রেলগেট ও মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় অফিসগামী মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু তারা পর্যাপ্ত গণপরিবহনও পাচ্ছেন না। ফলে প্রতিটি সিটে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি দাঁড়িয়েও যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।
.বাড্ডার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষার শুরু হলে দুই মেয়র ও মন্ত্রীদের আশ্বাস পেয়ে থাকি। কিন্তু কখনও জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হয় না; বরং দিন দিন নদী থেকে সাগরে পরিণত হচ্ছে রাজধানী।’
রাজধানীর সড়কে পানিনাসির উদ্দিন নামে একজন এনজিওকর্মী বলেন, ‘সকাল ৯টায় খিলক্ষেত থেকে বের হয়েছি। ধানমন্ডি ৭/এ-তে আসতে দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লেগে গেছে। রাস্তায় পানি, যানজট।’