ভূমি-কৃষিখাতসহ নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সমমজুরি প্রতিষ্ঠার আহ্বান

ভূমি ও কৃষিখাতসহ নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং সমমজুরি প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ওয়অইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে ‘জেন্ডার সমতা অর্জনে এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে চাই নারীর ভূমি, কৃষি অধিকার: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এর আয়োজনে এ কর্মশালায় ২০ জন সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

এসময় বক্তারা বলেন, নারীরা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ব্যাপকভাবে কৃষি কাজ করছে, কৃষিপণ্য উৎপাদনে অবদান রাখছে। গবাদি-পশু পালনেও তারা অবদান রাখছে। কিন্তু নারীরা তাদের অধিকারের জায়গায় বঞ্চিত। উত্তরাধিকার আইনেও নারীরা সম্পদ থেকে বঞ্চিত। তাই ভূমি ও কৃষি খাতসহ নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং সমমজুরি প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য আমাদের চিন্তায় এবং আচরণে পরিবর্তন আনার প্রতিও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক জনাব শামসুল হুদা বলেন, আমাদের দেশে বাজেটের আকার বাড়ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। অধিকারহীনতা আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে দেশে। আজও সাগর-রুনি হত্যার বিচার হচ্ছে না। মিডিয়া এ ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। নারী নির্যাতনের ব্যাপারে মিডিয়াসহ সকলকে সোচ্চার হতে হবে।

এএলআরডি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি বলেন, আমাদের খাসজমি বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা আছে, কিন্তু আইন নেই। আইন না থাকলে বাধ্যবাধকতা থাকে না বা অধিকার রক্ষায় চ্যালেঞ্জ করা যায় না। কৃষক হিসেবে নারীর স্বীকৃতি না থাকায় তারা কৃষি ঋণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত। কৃষি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীদের মজুরি বৈষম্য রয়েছে। এটা দূর করতে হবে।

কৃষি জমি অকৃষি, শিল্পায়ন এবং অন্যান্য খাতে চলে যাচ্ছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা প্রবৃদ্ধি নির্ভর উন্নয়ন নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাই; যেখানে নারীসহ সকল প্রান্তিক, জাতিগত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। দেশের সকল সম্প্রদায়ের নারীদের ভূমি, সম্পত্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিতে আমাদের কিছু আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার। এই দাবিগুলো সামনে আনতে হবে। মিডিয়া এ ব্যাপারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও বক্তব্য রাখেন তিনি।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন এএলআরডি’র সহকারী প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর সানজিদা খান রিপা।