ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, কড়াইল বস্তিতে বহুতলা ভবন নির্মাণ করে বাসিন্দাদের বসবাসের উপযোগী করা হবে। ক্রমান্বয়ে রাজধানীর সব বস্তিতে এইভাবে ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া আগুনসহ অন্যান্য দুর্যোগ থেকে বস্তিবাসীদের স্থায়ীভাবে বাঁচানো যাবে না।
তিনি বলেন, বস্তির বাসিন্দারা এখনও ভাড়া দিয়ে থাকেন। তারা যদি একই টাকায় একটি বহুতলা বাসার ফ্ল্যাটে থাকতে পারেন তাহলে জীবনমানও আরও উন্নত হবে। বস্তিবাসী আমাদের এই শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সোমবার (৭ জুন) মহাখালীর সাততলা বস্তির আগুনে ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের দুর্ভোগ পরিদর্শনে গিয়ে এই কথা বলেন মেয়র।
মেয়র আতিকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনিও নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী বুধবার আমি আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসবো। ভবনগুলো কেমন হবে, পরিবেশ কেমন হবে, এসব নিয়ে কথা বলবো। আশা করছি শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
মিরপুরের রূপনগরের বস্তিবাসীদের বাউনিয়াবাদ প্রজেক্টে স্থানান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলেও জানান মেয়র। এ ছাড়াও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা বস্তিতে থাকেন। তাদের নতুন একটি প্রজেক্টে নেওয়া হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘রূপনগর বস্তিতে ৭৮০টি পরিবার রয়েছে। তাদেরও ক্রমান্বয়ে নেওয়া হবে। গাবতলীতে বহুতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।’
সাততলা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পাঁচ হাজার করে নগদ টাকা, টিন, শুকনা খাবার এবং প্রতি বেলা ভারি খাবার রান্না করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমার সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অন্যান্যদের কথা হয়। আগুন লাগার পরে আমাদের করণীয় কী? এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে তা সম্ভব নয়। কীভাবে ধাপে ধাপে কাজগুলো করতে হবে সেটিই এখন আমাদের দায়িত্ব। উত্তরা একটি খালের কাজ চলছিল এবং অনেক জটলা ছিল এ কারণে এখানে আসতে দেরি হয়েছে। তবে সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমি পুড়ে যাওয়া বস্তিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপাতত ঘরের জন্য টিন দিতে হবে এবং এই মুহূর্তে খাদ্য লাগবে। ইতোমধ্যে কাউন্সিলর খাবার রান্নার কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আজ দুপুর থেকে খাবার চালু হবে এবং রাতেও বস্তিবাসীদের খাওয়ানো হবে। যতক্ষণ ত্রাণ না এসে পৌঁছাবে ততক্ষণ খাবার বিতরণ করব। এ ছাড়াও শুকনা খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হবে। বস্তিবাসীদের একটি মানুষও অভুক্ত থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।