বিধিনিষেধে ঢাকার চিত্র

প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন প্রজ্ঞাপন করে বিধিনিষেধ মনে করিয়ে দেওয়া হলেও রাজধানী ঢাকায় কোথাও কোনও নিয়ম কেউ মানছেন না। গণপরিবহন, রেস্তোরাঁ, শপিং মল থেকে শুরু করে অফিস আদালতে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই না মানার প্রবণতা বেশি।

করোনা নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা বলছেন, এখন নিয়ম মানাটাই আত্মরক্ষার বড় কৌশল। যদিও কারোর মধ্যে সেই সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। আর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলছেন, আমাদেরকে এখন নিয়ম মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে বলে আমরা একে একে সবকিছু খুলে দিতে চেষ্টা করছি। সেই নিয়ম না মানার কারণে যদি সংক্রমণ বাড়তে থাকে তবে আবারও সব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।

মঙ্গলবার ঢাকা শহরে ৭ হাজার ৭শ’ ৩৯ নমুনার মধ্যে শনাক্ত হয়েছে তিনশ ৪৭ জন। শনাক্তের হার ৪.৪৮ শতাংশ যা সোমবারের চেয়েও কিছুটা কম। তবে কী ঢাকার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে প্রশ্নে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) ইকবাল আর্সলান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকা শহরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে বলা যাবে না। কারণ সংক্রমণের হার ও মৃত্যু সংখ্যা উঠানামা করতে থাকে। এক দুইদিনের ওঠানামা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ বলা যাবে না। যদি লাগাতার ৭ দিন এরকম থাকে তাহলে বুঝতে হবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। নিয়ন্ত্রণ এসে গেলেও যে বিধিনিষেধগুলো বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সেগুলো মানতে হবে। সেগুলো মানা বাদ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

সরেজমিনে সোমবার (৭ জুন) রাজধানীর চাঁদনিচকের বাইরের ফুটপাতে গিয়ে দেখা যায়, ঠিক যেন ঈদের সময়ের বাজার। মানুষ আর মানুষ। একেকটি কসমেটিকের দোকানে উপচে পড়া ভিড়। কারোর মধ্যে সামাজিক দূরত্ব মেনে বাজার করার কোনও সতর্কতা কাজ করছে না। অধিকাংশের মাস্ক সঠিকভাবে পরা নেই, কেউ নাকের নিচে নামিয়ে রেখেছে, কেউ থুতনিতে দিয়ে রেখেছে।

শেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন ৪ জুন ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড, বেইলি রোডে সরেজমিনে দেখা যায় তিল ধরার ঠাঁই নেই। এই দুই এলাকা রেস্তোরাঁর জন্য খ্যাত। ছুটির দিন বিকেল থেকে শুরু হওয়া ভিড় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন মিলনমেলায় রূপ নেয়। রাস্তার পাশের ফুচকার দোকান থেকে বড় রেস্তোরাঁ সব জায়গায় ভিড় দেখে বলার উপায় নেই কোনও বিধিনিষেধ আছে কোথাও। সবাই সব ভুলে গেছে।

কেউ কিছু না মানার বিষয়ে যেন প্রশাসনও নিরুপায়। জীবন জীবিকার প্রশ্নে এসে সব নিষেধাজ্ঞা ম্লান হয়ে যায়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। কতদিন মানতে হবে তাও জানি না। যেহেতু জীবিকার প্রশ্ন বার বার সামনে এসে যাচ্ছে আমরা বিধিনিষেধে কিছু পরিবর্তন এনেছি। সবই চলবে কিন্তু নিয়ম মেনে। যেসব এলাকা বেশি সংক্রমিত, সেটা হোক তৃণমূলে, সেটি একটি নির্দিষ্ট গ্রাম, হতে পারে একটি শহর, হতে পারে একটি থানা শহর- যেখানে সংক্রমণ বেশি দেখা যাবে সেখানে আমরা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করব এবং সেই জায়গাগুলোতে শ্রমজীবী মানুষের খাওয়া-পরা সমস্যা না হয় সেজন্য তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ সহযোগিতা দেওয়া হবে। কিন্তু নিয়ম মানতেই হবে। তা না হলে আবারও যেকোনও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

তবে নিয়ম না মানার বিষয়টি সরেজমিনে চোখে পড়লেও তা পুরোপুরি সঠিক বলে মানতো চান না দোকান মালিক সমিতি। সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এখন মানুষ অনেকটা সতর্ক হয়েছে। আগে কোনওভাবে মাস্কটাও পরানো যেতো না। শপিং মলগুলো ঠিকঠাক চলছে কিনা বলে মনে করেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন অনেকেই সতর্ক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ বন্ধ রাখার পরে সমিতির পক্ষ থেকে শুরুর দিকে কয়েকটি শপিং সেন্টারে মনিটরিংয়ের তৎপরতা দেখলেও সেটি নেই কেন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা এখন সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজর দিচ্ছি বেশি। ঢাকায় মানুষ ঠিকঠাক চলছে।