বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
বুধবার (৯ জুন) দুপুর বারোটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কানাডার বেগমপাড়াসহ বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে দ্রুত প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন করে সংগঠনটি।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন এবং সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
সভাপতির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের অর্থ বিদেশে পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে দ্রুত প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচার সম্পূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড। আমরা কখনোই এসব দুর্নীতিবাজদের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নিবো না।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও দুদকের দায়িত্ব হচ্ছে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করে সেই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে কখনোই বিদেশে অর্থ পাচার হতো না এবং অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো বলে আমরা মনে করি। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাটোরের সাংসদ শিমুলের বিরুদ্ধে কানাডায় বাড়ি কেনার অভিযোগ ওঠেছে। কিছুদিন আগে সংসদ সদস্য পদ হারানো পাপুলের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠেছে। পি কে হালদারসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিন্তু কানাডার বেগমপাড়ায় যারা অর্থ পাচার করে বাড়ি কিনেছে, তাদের নাম এখনোও পর্যন্ত জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়নি যা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গত নভেম্বরে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের যে গুঞ্জন আছে, তার কিছুটা সত্যতা আমরা পেয়েছি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী টাকা পাচারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যাই বেশি। টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া ২৮টি ঘটনার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি। মনে করেছিলাম রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু দেখা গেল, রাজনীতিবিদ চারজন। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া কিছু ব্যবসায়ী আছেন।’ সুতরাং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সেই ২৮ জন বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।"
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা শিল্পী ভাস্কর রাশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন স্বাধীন, সহ-সভাপতি রোমান হোসাইন, শাহীন মাতবর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রায় এক ঘন্টা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করার পর সংগঠনের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ওয়ারিসুল ইসলাম।