দেড় মাসের বাচ্চার দুধের টাকা জোগাড় করবো কোথা থেকে

করতাম টেইলার্সের ব্যবসা, করোনার কারণে সে ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। তাই অ্যাপসের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে মোটরসাইকেলে ভাড়া মারতাম। কিন্তু গত রবিবার মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় আমার টেইলারটি বিধ্বস্ত হয় এবং বিপদের সাথী মোটরসাইকেলটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন আমার পরিবার কিভাবে চলবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি আমি। কথাগুলো বলছিলেন মগবাজার প্লাজার ড্রেস হাউস টেইলার্সের মালিক সাত্তার হাওলাদার।

করোনার কারণে একদিকে ব্যবসা নেই, অন্যদিকে গত রবিবার মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য বাইরে থাকায় দোকান বন্ধের কারণে এক কথায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, সোমবার দুপুরে তার দোকানটিতে জিনিসপত্র কি কি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা দেখতে এসেছিলেন। দোকানের শাটার বিস্ফোরণের কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেছে। থাই গ্লাস ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে।

বিষন্ন মন নিয়ে সাত্তার হাওলাদার বলেন, করোনার কারণে টেইলার্স ব্যবসায় বছরখানেক ধরে আগের সেই কাজ নেই।ব্যবসা মন্দার কারণে, দোকান বন্ধ করে মাঝেমধ্যে অ্যাপস ভিত্তিক পাঠাও এর মাধ্যমে মোটরসাইকেলে করে ভাড়া খাটতাম। সেদিন মোটরসাইকেলটি দোকানের সামনে পার্ক করা ছিল, বিস্ফোরণে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনিতেই দিশেহারা হয়ে আছি। টুকটাক যা আয় হতো তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাতাম কিন্তু এই ক্ষতি কিভাবে পোষাবো কিছুতেই ভেবে পাচ্ছি না।

দিশেহারা এ চিন্তাভাবনার এখানেই শেষ নয়, মাস দেড়েক হলো তার এক সন্তানের জন্ম হয়েছে। তাকে দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। বললেন, এই দুধের টাকা কিভাবে আসবে, কোথা থেকে আসবে- এ চিন্তায় কোন কূলকিনারা পাচ্ছি না। টেইলার্স দোকান মালিকের ভাড়া বাকি রয়েছে, এখন যে সব জিনিসপত্র ছিল সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেইসাথে উপার্জনের আর একটি মাধ্যম মোটরসাইকেলটিও ক্ষতিগ্রস্ত, এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

ভবিষ্যতে কিভাবে চলবে এমন শঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাত্তার হাওলাদার আরো বলেন, মগবাজার প্লাজার নিচতলায় আমার টেইলারস ড্রেস হাউজ টেইলার্সে গিয়ে কান্নায় চোখ ভিজে গিয়েছিল কিভাবে চলবে সামনের দিনগুলোতে। কি হবে আয়ের পথ। আয়ের যে পথ গুলো ছিল সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবারে স্ত্রী সহ তিন সন্তান রয়েছে। ৬ বছর, দুই বছর এবং ৪৫ দিনের তিন বাচ্চা নিয়ে কিভাবে চলব, তাদের খাবার কিভাবে জোগাড় করব, পরিবারকেই কি বলব? আর সেইসঙ্গে করোনার ভয় তো রয়েছেই। সামনে আবার লকডাউন দেয়া হবে, দোকানও বন্ধ থাকবে আর মোটরসাইকেলটিতে থেকেও নেই। বিস্ফোরণের কারণে আমার মত অনেক ব্যবসায়ী এখন পথে বসে গেছে।

রবিবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে ৭৯ নম্বরের তিনতলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ওই ভবনের আশপাশে মগবাজার প্লাজা, বিশাল সেন্টার, অন্য আর একটি আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।