লকডাউনের প্রথম দিনের সকাল থেকেই বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে রাজধানীর বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন অনেকে। এদের মধ্যে গার্মেন্টস-সংশ্লিষ্টদের সংখ্যাই বেশি।
বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর গাবতলী চেকপোস্ট সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই রাজধানীর দিকে আসছেন। তবে জরুরি প্রয়োজন কিংবা জরুরি সার্ভিসের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গন্তব্যে যেতে দেয়া হচ্ছে।
গার্মেন্টস ও কলকারখানা খোলা থাকায় সড়কে কিছু গাড়ি চলতে দেখা গেছে। চেকপোস্টগুলোতে পুলিশ গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই কিছুটা যানজট হচ্ছে।
মোটরসাইকেলে করে সাভারের একটি গার্মেন্টসে যাচ্ছিলেন আরমান। গাবতলীতে পুলিশের চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদে পড়েন তিনি। দেখাতে পারেননি পরিচয়পত্র। শুধু জানান ভিজিটিং কার্ড রয়েছে তার কাছে। বিষয়টি যুক্তিযুক্ত না হওয়ায় দায়িত্বরত পুলিশ তাকে মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে বাসায় চলে যেতে বলে।
এরকম অনেক ঘটনাই ঘটছে গাবতলী চেকপোস্টে। যে সব গাড়ি গার্মেন্টসের এবং গার্মেন্টসকর্মীদের আনা-নেওয়া করছে সেসব গাড়িগুলোকে কাগজপত্র দেখে যেতে দিচ্ছেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা।
সাইফুল ইসলাম সাভার থেকে প্রাইভেটকার নিয়ে রাজধানীতে ঢুকছিলেন। আমিন বাজার ব্রিজ পার হওয়ার পর গাবতলী চেকপোস্টে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হন তিনি। পুলিশ তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখতে পায় তার গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের তারিখ শেষ হয়ে গেছে। তিনি আর রিনিউ করেননি। রেজিস্ট্রেশন হালনাগাদ না থাকায় মামলা করে পুলিশ।
আমিনবাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে আসাদুজ্জামান যাচ্ছিলেন মিরপুর। গাবতলীতে চেকপোস্টে এসে তিনিও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পড়েন। যথাযথ কারণ জানাতে না পারায় তাকে ঘুরিয়ে আবার আমিনবাজার পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
নবাবপুরের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান সাভারে তার আত্মীয়ের বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছেন বলে গাবতলী চেকপোস্টের জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন। কিন্তু সে সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। বিষয়টি যুক্তিযুক্ত মনে না হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তিনি জানান, বাসায় স্ত্রী অসুস্থ তাকে দ্রুত ফিরতে হবে।
মিরপুর বিভাগের গাবতলী জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট ঝোটন শিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাঠে রয়েছি। তবে গার্মেন্টস খোলা থাকায় গার্মেন্টসের নিজস্ব গাড়ি দিয়ে যারা যাতায়াত করছেন তাদের আমরা যেতে দিচ্ছি। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যারা বের হয়েছেন তাদেরকে আমরা ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছি।
পুলিশের গাবতলী জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট দেলোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করছি গাবতলী চেকপোস্টে। অনেকে অনেক ধরনের যুক্তি দেখাচ্ছে বাইরে বের হওয়ার। কেউ অফিসে যাচ্ছেন, কেউ ব্যক্তিগত কাজে বের হয়েছেন। বিষয়টি আমাদের কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে না হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং মামলা করছি।
এদিকে রাজধানী থেকে যারা বাইরে যেতে চাচ্ছেন তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। যুক্তিযুক্ত কারণ হলেই গাড়িগুলো ছাড়ছে পুলিশ। যাদের কারণ যৌক্তিক মনে হচ্ছে না তাদের গাড়িগুলো ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মিরপুর বিভাগের গাবতলী জোনের সিনিয়র এসি (ট্রাফিক) ইত্তেখায়রুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গার্মেন্টস খোলা থাকায় সড়কে গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট লোকজনদের আনাগোনা রয়েছে। যারা বাইরে আসার যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারছেন তাদেরকে আমরা যেতে দিচ্ছি। যারা বিদেশগামী তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা চেক করে তাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছি।
দারুসসালাম জোনের সিনিয়র এসি (ক্রাইম) মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা প্রতিটি গাড়ির কাগজপত্রও চেক করছি। বিনা কারণে বাইরে না বের হতে সবার প্রতি আহবান রইল। নিজেরা সচেতন থাকলেই পরিবার সচেতন থাকবেন। জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বের হওয়া বর্তমান সময়ে প্রয়োজন নয় বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার থানা এলাকায় যতগুলো গার্মেন্টস রয়েছে সেসব গার্মেন্টসের শুরু এবং ছুটির টাইমটি আমরা গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে সংগ্রহ করেছি। ওই সময়ের পর অন্য কেউ গার্মেন্টসের কর্মী পরিচয় দিলে তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় আনবো।