বুধবার (৭ জুলাই) সকালে শ্যামবাজার থেকে নাটোরের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হলেন ফজর আলী। শ্যামবাজার থেকে গাবতলীর গাড়ি ভাড়া বেশি হওয়ায় পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করলেন তিনি। দুপুর দুইটার দিকে আমিনবাজার এসে পৌঁছান তিনি। এবার অপেক্ষায় নাটোরে যাওয়ার গাড়ির জন্য। কয়েকটি ট্রাক আসলেও তারা যে ভাড়া চাচ্ছে সেই ভাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নেই ফজর আলীর। পেশায় দিনমজুর, লকডাউনে কাজ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়ি চলে যাচ্ছেন তিনি।
শুধু ফজর আলী নয়, তার মতো অনেক শ্রমজীবী গাবতলীতে এসে ভিড় করছেন গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য। ট্রাক-পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্স- যে যেই গাড়িতে পারছেন ওঠে পড়ছেন। তবে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ট্রাক-ই ভরসা। একসঙ্গে অনেক মানুষ কম টাকায় যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য নিয়ে এসেছিলো এসব ট্রাক। ঢাকা ছাড়ার সময় যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে তারা।
শ্যামবাজারে কুলির কাজ করতেন ফজর আলী। আর এ কাজ করে স্বাভাবিক সময়ে তার দিনে আয় হতো ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মতো। এই টাকা দিয়েই ঢাকায় নিজের খরচ আর নাটোরে পরিবার চালাতেন ফজর আলী। চলমান লকডাউনে কাজ প্রায় বন্ধ। এখন দিনে ১৫০ টাকা আয় করাও সম্ভব হয় না।
ফজর আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাজ করি আর না করি আমার দিনে ১৩০ টাকা খাওয়া খরচ দিতে হয় মেসে। এখন কাজ করতে না পারলে টাকা পাবো কই, খাবো কী। ৫০০ টাকা নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছি, এটা দিয়ে নাটোর পর্যন্ত যেতে হবে। যে গাড়ি ভাড়া চায় তাতে শ্যামবাজার থেকে গাবতলী আসতেই টাকা শেষ হবে, তাই হেঁটে আসছি।’
আমিনবাজার ব্রিজ যাওয়ার পর দেখা যায় সেখানে অনেক ট্রাক যাত্রী নিচ্ছে। গন্তব্য ভেদে ভাড়া নিচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী ওঠাতে দেখা গেছে। এমনকি মোটরবাইকে ৫০০ টাকায় পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত নিয়ে যায় যাত্রী।
রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন আমজাদ। এখন কাজ বন্ধ থাকায় রাজশাহী নিজের বাড়ি ফিরবেন তিনি। ঘরে ফিরতে ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে একটি ট্রাকে ওঠেছেন তিনি। আমজাদ বলেন, ‘আমরা তো ইন্সট্রাকশন সাইটেই থাকতাম। কাজ বন্ধ, সেখানে এখন থাকা যাবে না। তাহলে বাড়ি যাওয়া ছাড়া তো কোনও উপায় নেই। আয়ও নেই, থাকায় জায়গাও নেই। ঢাকায় তাহলে কই থাকবো?’
ট্রাকচালক রফিকুল বলেন, ঢাকায় সবজি নিয়ে এসেছিলাম। এখন খালি গাড়িতে অল্প কয়েকজন যাত্রী নিয়ে যাচ্ছি।
পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা আছে কি না জানতে চাইলে রফিকুল বলেন, ‘সমস্যা তো হয়ই। ম্যানেজ করে যেতে হয়। ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত যেতে ৩ হাজার টাকা বিভিন্ন চেকপোস্টে দিতে হবে।’