সিটি করপোরেশনের নির্ধারণ করে দেওয়া সময়ের আগেই রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ধূপখোলা মাঠে শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। প্রতি বছরের মতো এবারও ধূপখোলার তিনটি মাঠজুড়েই কোরবানির গরুর হাটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বছর হাট এখনও জমে ওঠেনি। হাটে পশু থাকলেও বেচা-বিক্রির অনুমতি না থাকায় বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন।
অনেকেই লকডাউনের মধ্যে ফাঁকা রাস্তা পেয়ে ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে হাটে এসেছেন। ফলে বিক্রি না হওয়ায় নীরবতার মধ্যে দিয়েই কাটছে গরু ব্যবসায়ীদের সময়।
আর মাত্র ছয় দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু এখনও কোরবানির পশু ক্রয় করার জন্য তেমন কাউকে গরুর হাটে আসতে দেখা যায়নি। এক কথায় ক্রেতাশূন্য ধূপখোলা মাঠের কোরবানির পশুর হাট। তাছাড়া আগের মতো এবার গরু দিয়ে মাঠ পূর্ণ হয়নি।
গরু ব্যাপারী সোবহান জমাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ১৩টি গরু এনেছি। এখনও একটিও বিক্রি করতে পারিনি। পুরান ঢাকার মানুষ একটু দেরিতে গরু কিনে। ঈদের তিন বা দুই দিন আগে গরুর হাট জমজমাট হবে। তবে ঈদের আগেই সবগুলো গরু বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
রফিকুল ইসলাম নামের আরেক গরু ব্যাপারী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ বছর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনলাইনে গরু বিক্রি করা হচ্ছে। অনলাইনে গরু বিক্রির হিড়িক পড়েছে। তাই গরুর মাঠে ক্রেতা কম। এবার হাটে তিনি ছয়টি গরু এনেছেন। এখনও বিক্রি করতে পারেননি একটিও। তবে ঈদের আগে ঠিকই বিক্রি হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে আগামী ১৭ জুলাই থেকে ঈদের দিন ২১ জুলাই পর্যন্ত ৫দিন রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে। ইজারাদাররা পশু বিক্রি শুরুর দুই দিন আগে এই হাটগুলোর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দুই সিটি করপোরেশনের ইজারা দেওয়া ১৯টি অস্থায়ী হাটের ইজারাদারদের এই শর্ত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাট পরিচালনার জন্য আরও ৪৬টি শর্ত মানতে হবে ইজারাদারকে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ইজারাদারদেরকে পশু বিক্রি করার জন্য ৫দিন সময় দিয়েছি। যেহেতু আগামী ২১ জলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে, সেহেতু ১৭ জুলাই থেকে তারা পশু বিক্রি করতে পারবেন। আর ১৫ জুলাই থেকে পশুর হাটের প্রস্তুতি নিতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের আগে পশু বিক্রি ও হাট সাজানো যাবে না।’