রাস্তা ও ফেরিঘাটে জ্যামের কারণে সাধারণ সময়ে যে পরিমাণ বাস ছাড়া হতো সেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না। সংখ্যা কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে রাজধানী ছেড়ে যেতে পারছে না বেশিরভাগ বাস। নির্ধারিত সময় থেকে দশ ঘণ্টা পরেও গন্তব্যের দিকে রওনা হচ্ছে বেশিরভাগ দূরপাল্লার পরিবহন। এদিকে দীর্ঘ অপেক্ষা আর অসহনীয় গরমে নাকাল যাত্রীরা।
শনিবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় সকাল থেকে অনেক বাসের শিডিউল পরিবর্তন হয়েছে। আবার অনেক বাস যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় ছেড়ে যায়নি। নির্ধারিত সময়ে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছলেও হাতেগোনা কয়েকটি পরিবহনের বাস গাবতলী থেকে সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে। আর অনেক পরিবহনের যাত্রীরা ছিলেন অপেক্ষারত অবস্থায়।
সেঞ্চুরি পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আমিনুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্ধারিত সময় বাসগুলো গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যেতে পারছে না। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা আটটায় বাস ছাড়ার কথা থাকলেও সেই বাস গাবতলী টার্মিনাল এসে পৌঁছায় রাত ২টায়। পরবর্তীতে গাড়ির কিছু কাজ শেষে তিনটার দিকে যাত্রী নিয়ে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
রজনীগন্ধা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নূরু বলেন, সকাল থেকে চারটি গাড়ি ছাড়ার কথা থাকলেও যাত্রী কম থাকায় একটি বাস ছাড়তে পেরেছি। এসময় নির্ধারিত সময়ে বাস না ছাড়ায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জাকের এন্টারপ্রাইজ’র কাউন্টার ম্যানেজার আলমগীর বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যাত্রী চাপ ছিলো। আজ অনেকটাই কম রয়েছে। যাত্রী কম থাকায় সকাল থেকে দুটি গাড়ির যাত্রা বাতিল হয়েছে।
একে ট্রাভেলসে সাতক্ষীরা যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন আশরাফ দম্পতি। সকাল আটটায় বাসের নির্ধারিত ছাড়ার সময় থাকলেও সাড়ে নয়টার পরও কাউন্টারে আসেনি। অপেক্ষারত আশরাফ জানান, ‘বলছে কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবে, তবে এখনো কোনও খোঁজ নেই।’
গ্রামের বাড়ি নড়াইল যাবার জন্য অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন মুজাহিদ। পরিবারের আরেক সদস্যকে নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। এসময় তিনি জানান, সকাল সাড়ে সাতটায় বাস ছাড়ার কথা থাকলেও সাড়ে দশটার বেশি বাজে। এখনো বাসের দেখা পেলাম না। জানি না কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।