কালক্ষেপণ না করে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। শনিবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদী সমাবেশে এই আহ্বান জানায় বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়য় অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা একটা বিশ্বয় অনুভব করি যে অনলাইনে ক্লাস বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা সুবিধাজনক। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিংবা ইন্টারনেট চলে যাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না নানা সময়ে। পরীক্ষার উত্তর জমা দিতে যেয়ে অনেকের উত্তর সব মুছে যায়। কোনও কোনও শিক্ষক সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখলেও সবাই তো তা করে না। অনলাইন ক্লাসের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে, কার পরীক্ষা কে দেয় তা বুঝা যায় না।
সরকার দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি সময়ে সময়ে বাড়িয়ে গেছে, কিন্তু অনলাইনে ক্লাস করানোর জন্য সাপোর্ট বাড়ানোর চেষ্টা নেই।
সমাবেশে লেখক ও গবেষক রাখাল রাহা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে যে তথ্য এবং যুক্তি সরকার জানেন না বা বুঝেন না কিংবা তাদের কাছে তা নেই তা কিন্তু না। কারণ সরকারের ঊর্ধ্বতন যারা তাদের সবার সন্তানেরা এই দেশে লেখাপড়া করে না। তাদের সন্তানেরা যেসব দেশে লেখাপড়া করেন সেসব দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে খোলা হয়েছে, কখন খোলা হয়েছে; কী কী প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে সেগুলো তারা জানে। সুতরাং তারা জানেন, নতুন কোনও যুক্তি স্থাপন করে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে আশ্বস্ত করা যাবে এরকম আমরা মনে করি না। আমাদের দিকে সরকার যেসব তথ্য ছুড়ে দেয় তার প্রেক্ষিতে আমরা সাধারণ মানুষ, অভিভাবক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ আছে যাদের করোনা তুঙ্গে থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করেনি। কিন্তু আমাদের এখানে যুক্তি হাজির করা হচ্ছে। যারা করোনা সবচেয়ে ভালভাবে মোকাবিলা করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া। তাদের ভ্যাকসিন গ্রহণের হার আমাদের চেয়েও কম। সেখানে তারা সমস্ত কিছু খোলা রাখতে পারছে কীভাবে। আমাদের এখানে লকডাউন মানে হয়ে গেছে – সবকিছু খোলা থাকবে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। আজ ৫২৯ দিন আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের জাতীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান রাজা, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুমসহ কিছু শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী।