গণটিকার তৃতীয় দিনেও বৃষ্টির ভোগান্তি

গণটিকার তৃতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের টিকাকেন্দ্রগুলোতে বৃষ্টি হানা দিয়েছে। সকাল থেকে কিছুটা দুর্ভোগ ছাড়া টিকা প্রত্যাশীরা টিকা নিলেও বেলা সাড়ে ১১টার পর মুষলধারে বৃষ্টি হানা দেয়। এতে তীব্র দুর্ভোগে পড়তে হয় টিকা প্রত্যাশীদের। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) টিকা গ্রহণের শেষ দিন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকালে খিলগাঁও তিলপাড়া মাতৃসদন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের তেমন একটা ভিড় নেই। যারাই কার্ড নিয়ে আসছেন তারাই টিকা গ্রহণ করতে পেরেছেন। টিকা নেওয়ার পর তাদের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে সাড় ১১টার পর বদলে যায় চিত্র। সেখানে কোনও টিকা গ্রহণকারীদের দেখা যায়নি। বৃষ্টির কারণে অনেকেই আসতে পারেনি বলে জানিয়েছে টিকাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা।

এই কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক আরিফ উদ্দিন বলেন, যারাই কার্ড নিয়ে আসছেন আমরা তাদেরকে টিকা দিয়ে দিচ্ছি। বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে আমাদের এখানে সামিয়ানা দিয়ে ঘরের মতো তৈরি করা হয়েছে। যে পরিমাণ লোক আছে তারা এতে অংশ নিতে পারেন।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, সংস্থা দুটির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা তথা রাজধানী ঢাকায় ১২৯টি কেন্দ্রে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় টিকা কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ড ও উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে বিকাল পর্যন্ত। প্রতিদিন প্রতিটি কেন্দ্রে ৭০০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দুই সিটি করপোরেশন।

এর আগে গত সোমবার দুই সিটি করপোরেশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন প্রতিটি কেন্দ্রে করোনার দ্বিতীয় ডোজের ৭০০ জন টিকা প্রত্যাশীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৮ ও ৯ আগস্টে ১ম ডোজ টিকা গ্রহণকারী ব্যক্তিরা গত ৭ সেপ্টেম্বর টিকা নিয়েছেন। ৯ ও ১০ আগস্টের টিকা গ্রহণকারী গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর এবং ১১ ও ১২ আগস্টের টিকা গ্রহণকারীরা আজ ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করা কেন্দ্র থেকে ২য় ডোজের টিকা গ্রহণ করতে পারবেন।  

দক্ষিণ সিটি জানিয়েছে, ১ম ডোজের গণটিকা কর্মসূচিতে ডিএসসিসির প্রতিটি কেন্দ্র থেকে সাড়ে ৩০০ টিকা প্রদান করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সে সময় ছয় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের ৭৫টি কেন্দ্র থেকে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৩ জন মানুষ ১ম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে ডিএনসিসির নির্ধারিত ৫৪টি টিকা কেন্দ্রে ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত একযোগে পরিচালিত গণটিকার আওতায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ জনকে করোনা ১ম ডোজ প্রদান করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরীর কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় বেড়েছে। তবে গত দুই দিনে যাদের টিকা নেওয়ার কথা তারাও আজ টিকা নিতে পারছেন। তবে বৃষ্টির কারণে কেন্দ্রগুলোতে মানুষের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজেও টিকা গ্রহণ করেছেন।

সকালে মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের ভিড় রয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই টিকা নিচ্ছেন। সিপাহীবাগ নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থাও একই। এ কেন্দ্রেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই লাইন ছেড়ে আশপাশের দোকানপাটে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি হলেও টিকা পেয়ে খুশি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সিদ্ধেশ্বরী কেন্দ্রেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়েই তারা টিকা গ্রহণ করছেন।

এই কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে এসেছেন সারমিন বেগম। তিনি বলেন, সকালে এসে টিকা নিয়েছি। কিন্তু এখন বৃষ্টি চলে এসেছে। বাসায় যেতে তো সমস্যা হবে। তিনি আরও বলেন, তেমন কোনও কষ্ট হয়নি। মানুষ যেহেতু বেশি সেহেতু একটু ধৈর্য তো ধরতেই হবে।