বৃষ্টি-লোডশেডিংয়ে টিকাদান ব্যাহত 

বৃষ্টি ও লোডশেডিংয়ের কারণে পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে গণটিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কেন্দ্রে এসেও টিকা না নিয়েই ফিরে যান অনেকেই। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী একযোগে গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয়। পুরান ঢাকার গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য গত দুইদিন টিকাদান কেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেলেও আজ গণটিকার (৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় ডোজের শেষ দিনে তেমন একটা ভিড় চোখে পড়েনি। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪১, ৪২ ও ৪৩নং ওয়ার্ড গণটিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম বিগত দুইদিনের মতো চলছিল। কিন্তু বৃষ্টি আর লোডশেডিং তার কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। পূর্বের মতোই টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত ছিল। বেশিরভাগ মানুষের মুখেই ছিল না মাস্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তার কোনও সুরাহা হয়নি।

দ্বিতীয় ডোজ প্রত্যাশী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কাগজপত্র ফটোকপি করার জন্য অপেক্ষা করছি। বিদ্যুৎ না থাকায় করতে পারছি না। টিকা নিতে হলে আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে। তাই এখনও নিতে পারিনি। 

রোজিনা বেগম নামের আরেকজন টিকা প্রত্যাশী বলেন, অন্ধকারে মোবাইলের লাইট দিয়ে অনেকেই টিকা দিয়েছে। আবার অনেকেই এমন পরিস্থিতি দেখে টিকা না দিয়েই চলে গেছে। এ ছাড়াও এখনও অনেকের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার এসএমএস না আসার অভিযোগ রয়েছে।

পুরান ঢাকার ৪১ নং ওয়ার্ডের ফকিরচান সর্দার কমিউনিটি সেন্টারে টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। এই কমিউনিটি সেন্টারে কোনও ধরনের লোডশেডিং না থাকায় মানুষের টিকা নিতে কোনও ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। এখানে সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষ টিকা দিতে এসেছে। তবে ১২টা না বাজতেই মানুষের চাপ কমতে থাকে। সেখানে কোনও ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে বাসায় ফিরেছেন মানুষ।

উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশন এলাকায় আগস্টের ৭ তারিখ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে যারা গণটিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন তারা একই কেন্দ্রে ৭, ৮, ও ৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন। পুরান ঢাকার ৪২নং ওয়ার্ডের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার রেড ক্রিসেন্টের তথ্য মতে, বিগত তিন কার্যদিবসে যারা গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ দিতে পারেনি তাদেরকে আগামী ১১ এবং ১২ সেপ্টেম্বর টিকা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এখনও কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসেনি।